০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ফ্রান্সে বাংলাদেশী কমিউনিটির ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo দক্ষিণভাগ দঃ ইউনিয়ন ছাত্রদলের দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo বড়লেখা পৌরশহরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু Logo সবুজে ভরে উঠেছে বড়লেখার চা বাগান, শুরু হয়েছে নতুন মৌসুমের পাতা চয়ন Logo বড়লেখা উপজেলা যুব বিভাগের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন Logo জুড়ীতে ৫০ ইমাম-মুয়াজ্জিনকে ঈদ উপহার দিল ‘আনোদ আল মোল্লা ট্রাস্ট’ Logo বড়লেখায় বাঙালী বাউল শ্রমিক শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যকরী কমিটি গঠন Logo ফেইসবুকে অপপ্রচারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতার মামলা Logo জুড়ীতে প্রবাসী মাহবুব হাসান সাচ্চুর উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo সিলেটে মৌলভীবাজার সমিতির জমকালো ইফতার মাহফিল

নারী-শিশুসহ ১৬ পরিবার আতঙ্কে

সিলেটে গারো পাড়ায় উচ্ছেদ শঙ্কা, সোচ্চার নাগরিক সমাজ

ষাটমাকন্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:৪৯:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 46
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিলেট সদরে বসবাসরত ১৬টি গারো পরিবার উচ্ছেদ আতঙ্কে দিন পার করছেন। এমন পরিস্থিতিতে পুনর্বাসন ছাড়া পরিবারগুলোকে উচ্ছেদ না করার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

সদর উপজেলার খাদিমনগর ইউনিয়নের কল্লগ্রামের ফিসারী ছড়ারপাড়ে গারো পরিবারগুলো ৬০ থেকে ৭০ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি স্থানীয় একটি হাউজিং কোম্পানির পক্ষ থেকে তাদেরকে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

খবর পেয়ে শুক্রবার বিকালে নাগরিক প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এতে নেতৃত্ব দেন পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা-ধরা’ সিলেট শাখার আহ্বায়ক মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার।

তিনি বলেন, দেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ শান্তিপ্রিয়, সহজ-সরল ও নির্বিবাদী। গারো জনগোষ্ঠীর পরিবারগুলো কয়েক প্রজন্ম ধরে এখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে।

মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে শিশু, নারী ও বয়োবৃদ্ধদের বাস্তুচ্যুত করা না করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবাদী নাগরিক সংগঠনের এ নেতা।

নাগরিক প্রতিনিধি দলে আদিবাসী গবেষক অধ্যপক মোহাম্মদ জহিরুল হক, নাগরিক সংগঠক আব্দুল করিম কিম, আদিবাসী পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের ফাদার যোশেফ গোমেজ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গোলাম সোবহান চৌধুরী, সংবাদকর্মী শাকিল জামান ও আব্দুর রহমান হিরা এবং নাট্যকর্মী নাহিদ পারভেজ বাবু উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, কল্লগ্রামে তিন প্রজন্মের প্রায় ৮০ জন মানুষ ২৫ দশমিক ৭ ডেসিমেল জায়গায় কাঁচা-পাকা ঘর বানিয়ে বসবাস করছেন। ইউনিয়ন পরিষদকে হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদানের পাশাপাশি প্রাপ্ত বয়স্কদের রয়েছে পাড়ার ঠিকানার জাতীয় পরিচয়পত্র।

সম্প্রতি স্থানীয় ‘চেয়ারম্যান হাউজিং কোম্পানির’ পক্ষ থেকে পরিবারগুলোকে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে নারী ও শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ অবস্থায় ‘গারোপাড়া’র এ সংকট সম্পর্কে ধারণা নিতে ও তাদের পাশে দাঁড়াতে এলাকাটি পরিদর্শন করেছে নাগরিক প্রতিনিধি দল।

প্রতিনিধি দল জানতে পারে, প্রশাসন স্থায়ী পুনর্বাসনের মাধ্যমে গারো জনগোষ্ঠীর পরিবারগুলোকে স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতি দিলেও স্থানীয় একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী তাদেরকে এখনি উচ্ছেদ করতে চাইছে; যা মানবাধিকারের লঙ্ঘনের শামিল।

পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দল দেখতে পায়, ছড়ায় বিসিক শিল্পনগরী থেকে আসা শিল্পবর্জ্যের ভয়াবহ দূষণ। ছড়াতে মাটি ফেলে প্রাকৃতিক প্রবাহকে পরিকল্পিতভাবে পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ছড়ার প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে গারো পরিবারগুলো বিপদে পড়বে।

দূষিত পানির দুর্গন্ধে ছড়ার পাশে বসবাসরত গারোদের টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে উঠবে; যা গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কের বলে মনে করছে প্রতিনিধি দল। এমতাবস্থায় প্রতিনিধিদল স্থানীয় প্রশাসনকে পরিবারগুলোর পাশে থাকার অনুরোধ জানান।

সূত্র : বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

নিউজটি শেয়ার করুন

নারী-শিশুসহ ১৬ পরিবার আতঙ্কে

সিলেটে গারো পাড়ায় উচ্ছেদ শঙ্কা, সোচ্চার নাগরিক সমাজ

আপডেট সময় : ০১:৪৯:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সিলেট সদরে বসবাসরত ১৬টি গারো পরিবার উচ্ছেদ আতঙ্কে দিন পার করছেন। এমন পরিস্থিতিতে পুনর্বাসন ছাড়া পরিবারগুলোকে উচ্ছেদ না করার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

সদর উপজেলার খাদিমনগর ইউনিয়নের কল্লগ্রামের ফিসারী ছড়ারপাড়ে গারো পরিবারগুলো ৬০ থেকে ৭০ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি স্থানীয় একটি হাউজিং কোম্পানির পক্ষ থেকে তাদেরকে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

খবর পেয়ে শুক্রবার বিকালে নাগরিক প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এতে নেতৃত্ব দেন পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা-ধরা’ সিলেট শাখার আহ্বায়ক মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার।

তিনি বলেন, দেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ শান্তিপ্রিয়, সহজ-সরল ও নির্বিবাদী। গারো জনগোষ্ঠীর পরিবারগুলো কয়েক প্রজন্ম ধরে এখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে।

মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে শিশু, নারী ও বয়োবৃদ্ধদের বাস্তুচ্যুত করা না করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবাদী নাগরিক সংগঠনের এ নেতা।

নাগরিক প্রতিনিধি দলে আদিবাসী গবেষক অধ্যপক মোহাম্মদ জহিরুল হক, নাগরিক সংগঠক আব্দুল করিম কিম, আদিবাসী পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের ফাদার যোশেফ গোমেজ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গোলাম সোবহান চৌধুরী, সংবাদকর্মী শাকিল জামান ও আব্দুর রহমান হিরা এবং নাট্যকর্মী নাহিদ পারভেজ বাবু উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, কল্লগ্রামে তিন প্রজন্মের প্রায় ৮০ জন মানুষ ২৫ দশমিক ৭ ডেসিমেল জায়গায় কাঁচা-পাকা ঘর বানিয়ে বসবাস করছেন। ইউনিয়ন পরিষদকে হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদানের পাশাপাশি প্রাপ্ত বয়স্কদের রয়েছে পাড়ার ঠিকানার জাতীয় পরিচয়পত্র।

সম্প্রতি স্থানীয় ‘চেয়ারম্যান হাউজিং কোম্পানির’ পক্ষ থেকে পরিবারগুলোকে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে নারী ও শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ অবস্থায় ‘গারোপাড়া’র এ সংকট সম্পর্কে ধারণা নিতে ও তাদের পাশে দাঁড়াতে এলাকাটি পরিদর্শন করেছে নাগরিক প্রতিনিধি দল।

প্রতিনিধি দল জানতে পারে, প্রশাসন স্থায়ী পুনর্বাসনের মাধ্যমে গারো জনগোষ্ঠীর পরিবারগুলোকে স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতি দিলেও স্থানীয় একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী তাদেরকে এখনি উচ্ছেদ করতে চাইছে; যা মানবাধিকারের লঙ্ঘনের শামিল।

পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দল দেখতে পায়, ছড়ায় বিসিক শিল্পনগরী থেকে আসা শিল্পবর্জ্যের ভয়াবহ দূষণ। ছড়াতে মাটি ফেলে প্রাকৃতিক প্রবাহকে পরিকল্পিতভাবে পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ছড়ার প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে গারো পরিবারগুলো বিপদে পড়বে।

দূষিত পানির দুর্গন্ধে ছড়ার পাশে বসবাসরত গারোদের টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে উঠবে; যা গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কের বলে মনে করছে প্রতিনিধি দল। এমতাবস্থায় প্রতিনিধিদল স্থানীয় প্রশাসনকে পরিবারগুলোর পাশে থাকার অনুরোধ জানান।

সূত্র : বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম