বড়লেখার কাঁঠালতলীতে ফজর ক্যাম্পেইন পুরস্কার বিতরণী সম্পন্ন
- আপডেট সময় : ০৫:৪৯:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 205
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ৮নং দক্ষিণভাগ উত্তর (কাঠালতলী) ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ৬নং ওয়ার্ড মুছেগুলে ৪০ দিন ফজর নামাজ জামায়াতে আদায় প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
১৯ ডিসেম্বর শুক্রবার বাদ ফজর ৬নং ওয়ার্ড মুছেগুলের “ফজর ক্যাম্পেইন পরিচালনা কমিটি” এর উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোর ও যুবকদের নিয়মিত জামাতে ফজর নামাজ আদায়ে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরনী আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার বাদ ফজর হাফিজ হারুনুর রশিদের পরিচালনায় শুরু হওয়া অনুষ্টানে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন হাফিজ আলী হোসেন। ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন বড়লেখা সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের শিল্পী নাজমুল ইসলাম।
প্রতিযোগিতায় মোট ৩৮ জন শিশু-কিশোর ও যুবক অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারী সকলকে উৎসাহিত করতে কমন পুরস্কার হিসেবে ফজর ক্যাম্পেইন লিখাযুক্ত হুডি প্রদান করা হয়।
পুরো ৪০ দিন ফজরের নামাজ জামায়াতে আদায়কারীদের মধ্য হতে লটারির মাধ্যমে ১ম পুরস্কার বাইসাইকেল বিজয়ী নির্বাচন করা হয়। ১ম পুরস্কার বাইসাইকেল বিজয়ী হোন সিলেট এমসি কলেজের একাদশ শ্রেনীর বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্র কামিল আহমদ। পরবর্তী বিশেষ পুরস্কার জন্য ২ জনকে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচিত বিশেষ পুরস্কার (জায়নামাজ) ২জন হলেন আবুল হোসেন ও মেহরাজ মীম।
বাইতুল আমান জামে মসজিদের সভাপতি হাজী লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে পরিচালিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার ১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা আমিনুল ইসলাম।
অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জুবায়ের আহমদ শিমুল- ফজর টিম পরিচালক। অনিকুর রহমান চৌধুরী রাহি, ফজর ক্যাম্পেইন পরিচালক (কাঠালতলী প্রাচীন জামে মসজিদ) এবং কামরুজ্জামান মুক্তা, ফজর ক্যাম্পেইন পরিচালনা টিম সদস্য (কাঠালতলী ইউনিয়ন)
নামাজের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা পেশ করেন হযরত বেলাল (রাঃ) মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল করিম ও বাইতুল আমান জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আবুল খায়ের।
সভাপতি হাজী লুৎফুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন এই ধরনের উদ্যোগ শিশু-কিশোর ও যুব সমাজকে ধর্মচেতনায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফজর নামাজ শুধু একটি দৈনন্দিন রুটিন নয়, এটি একটি জীবনের মূল স্তম্ভ যা মানুষের চরিত্র, মননশীলতা ও নৈতিকতাকে দৃঢ় করে। আমরা চাই, এই উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে চলে এবং প্রতিটি মহল্লার শিশু ও কিশোররা নিয়মিত নামাজের মাধ্যমে আত্মিক ও নৈতিকভাবে গড়ে উঠুক। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং তরুণ প্রজন্মকে ইসলামের সঠিক পথে পরিচালিত করবে।
প্রধান অতিথি মাওলানা আমিনুল ইসলাম বলেন, ফজর নামাজ আমাদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এই ৪০ দিনের ফজর ক্যাম্পেইন শিশু-কিশোরদের মধ্যে সময়মতো নামাজ আদায়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে। ফজর নামাজের মাধ্যমে মানুষ কেবল নিজেকে আল্লাহর নৈকট্য লাভে প্রস্তুত করে না, বরং তার মন, দেহ ও আত্মার মধ্যে সমন্বয় সৃষ্টি হয়। এটি তাদের নৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণেও উন্নয়ন ঘটায়। এমন উদ্যোগ শুধু নামাজের অনুশীলন নয়, বরং যুব সমাজকে দায়িত্বশীল, সচেতন ও নৈতিকভাবে শক্তিশালী করে। আশা করি, ভবিষ্যতেও আরও বেশি শিশু-কিশোর এই ধরনের ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণ করবে এবং নিয়মিত নামাজে অভ্যস্ত হবে।
ফজর টিম পরিচালক জুবায়ের আহমদ শিমুল বলেন: তরুণ ও যুব সমাজকে ফজরের নামাজে অভ্যস্ত করতেই এই আয়োজন। ফজরের নামাজ মানুষকে শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন ও আল্লাহভীরু মানসিকতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে। তরুণরা ফজরের নামাজে অভ্যস্ত হলে ব্যক্তি জীবন ও সমাজ উভয়ই আলোকিত হবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আমিনুল ইসলাম দোয়া পরিচালনা করেন। দোয়ায় তিনি ওসমান হাদীর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি তরুণ ও যুবকদের ফজরের নামাজে অভ্যস্ত করতে গৃহীত এই ফজর ক্যাম্পেইন যেন আল্লাহ তায়ালা কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে সমাজে দ্বীনি জাগরণ সৃষ্টি হয়।






















