০৫:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কমলগঞ্জে সড়ক উন্নয়ন ও খাল খনন কাজের উদ্বোধন Logo সরকার কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে- নাসির উদ্দিন মিঠু এমপি Logo জুড়ীতে অবৈধভাবে মজুত করা ১৪ শ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ Logo জ্বালানি সংকটে বিয়ের অনুষ্ঠানে চমক, উপহার হিসেবে অকটেন পেলেব বর Logo বগুড়ায় তারার মেলা, কনকচাঁপা পেলেন আজীবন সম্মাননা Logo অভিজ্ঞতা ছাড়াই চাকরির সুযোগ মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে Logo রাষ্ট্রপতির উপ-প্রেস সচিব ও সহকারী প্রেস সচিব নিয়োগ Logo জাকসুকে ‘রাজনৈতিক স্বার্থে’ ব্যবহারের অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি Logo সুচিত্রা সেন: পাবনার এক সাধারণ মেয়ে থেকে মহানায়িকা হয়ে ওঠার গল্প Logo সিলেটের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মীর্জা জামাল পাশা আর নেই

জুড়ীতে নিষিদ্ধ এয়ারগান দিয়ে পাখি শিকার, বন বিভাগের অভিযান

খোর্শেদ আলম, জুড়ী উপজেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:৪১:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
  • / 276
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজারের জুড়ীতে নিষিদ্ধ এয়ারগান ব্যবহার করে বন্যপাখি শিকারের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিতে দেখা যায়, একটি পাত্রে একাধিক পাখি কাদে এয়ারগানসহ রাখা হয়েছে। বিষয়টি বনবিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের নজরে আসলে তারা তাৎক্ষণিক অভিযান চালায়।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম (২২)। সে জুড়ী উপজেলার পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের বড়ধামাই গ্রামের শফিক উদ্দিনের ছেলে এবং নয়াবাজার আহমদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্র।

বন্যপ্রাণী ও জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মির্জা মেহদী সারওয়ার বলেন, “আমরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়ে অভিযান পরিচালনা করি। তাকে বাড়িতে না পেয়ে তার ব্যবহৃত এয়ারগানটি জব্দ করে নিয়ে আসি। আমরা পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, এ ধরনের অবৈধ শিকার কেবল বন্যপ্রাণীর জন্য নয়, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও বড় হুমকি।

পরিবেশকর্মী কামরুল হাসান বলেন, “এয়ারগান দিয়ে নির্বিচারে পাখি শিকার আমাদের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের অন্যতম বড় কারণ। শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সচেতনতার দায়িত্ব নিতে হবে। নাহলে প্রকৃতি রক্ষার লড়াই সফল হবে না।”

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ আমিনুর রহমান বলেন, “একটি পাখি হত্যা মানে শুধু একটি প্রাণ নষ্ট করা নয়, বরং একটি পুরো খাদ্যচক্র ভেঙে দেওয়া। পাখিরা কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করে, ফল-ফসলের পরাগায়নে সাহায্য করে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। এয়ারগান দিয়ে নির্বিচারে শিকার এ অঞ্চলের জীববৈচিত্র্যকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে। বনবিভাগকে নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে এবং সমাজকেও এ বিষয়ে দায়িত্বশীল হতে হবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনগত পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ-সংরক্ষণমূলক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা না হলে এ ধরনের ঘটনা থামানো কঠিন হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

জুড়ীতে নিষিদ্ধ এয়ারগান দিয়ে পাখি শিকার, বন বিভাগের অভিযান

আপডেট সময় : ০৭:৪১:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

মৌলভীবাজারের জুড়ীতে নিষিদ্ধ এয়ারগান ব্যবহার করে বন্যপাখি শিকারের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিতে দেখা যায়, একটি পাত্রে একাধিক পাখি কাদে এয়ারগানসহ রাখা হয়েছে। বিষয়টি বনবিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের নজরে আসলে তারা তাৎক্ষণিক অভিযান চালায়।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম (২২)। সে জুড়ী উপজেলার পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের বড়ধামাই গ্রামের শফিক উদ্দিনের ছেলে এবং নয়াবাজার আহমদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্র।

বন্যপ্রাণী ও জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মির্জা মেহদী সারওয়ার বলেন, “আমরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়ে অভিযান পরিচালনা করি। তাকে বাড়িতে না পেয়ে তার ব্যবহৃত এয়ারগানটি জব্দ করে নিয়ে আসি। আমরা পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, এ ধরনের অবৈধ শিকার কেবল বন্যপ্রাণীর জন্য নয়, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও বড় হুমকি।

পরিবেশকর্মী কামরুল হাসান বলেন, “এয়ারগান দিয়ে নির্বিচারে পাখি শিকার আমাদের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের অন্যতম বড় কারণ। শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সচেতনতার দায়িত্ব নিতে হবে। নাহলে প্রকৃতি রক্ষার লড়াই সফল হবে না।”

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ আমিনুর রহমান বলেন, “একটি পাখি হত্যা মানে শুধু একটি প্রাণ নষ্ট করা নয়, বরং একটি পুরো খাদ্যচক্র ভেঙে দেওয়া। পাখিরা কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করে, ফল-ফসলের পরাগায়নে সাহায্য করে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। এয়ারগান দিয়ে নির্বিচারে শিকার এ অঞ্চলের জীববৈচিত্র্যকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে। বনবিভাগকে নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে এবং সমাজকেও এ বিষয়ে দায়িত্বশীল হতে হবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনগত পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ-সংরক্ষণমূলক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা না হলে এ ধরনের ঘটনা থামানো কঠিন হবে।