০২:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo তনু হত্যা মামলা: ১০ বছর পর প্রথম গ্রেপ্তার ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর ৩ দিনের রিমান্ডে Logo ঢাকার প্রথম নারী ডিসি ফরিদা খানম Logo কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রচার করলে দ্রুত বিচার আইনে ব্যবস্থা Logo বড়লেখায় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থী ৩৮৩০, প্রথম দিনে অনুপস্থিত ২৫ জন Logo জুড়ীতে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু Logo ১০০ কোটির মালিক, তবু যাতায়াত অটোয়, ভাইরাল মুম্বইয়ের ব্যবসায়ীর জীবনযাত্রার পোস্ট! Logo ফ্রান্সের অরলিয়ন্সে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত Logo ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে মৌলভীবাজারের যুবক নিহত Logo জামায়াত এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি Logo জুড়ীতে প্রধান শিক্ষক নিখোঁজ, মোটরসাইকেল ও জামাকাপড় উদ্ধার

জুমার দিনের ফজিলত ও বিশেষ আমল

রাহিন আহমদ নোবেল::
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৪:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫
  • / 102
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইসলামে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হলো শুক্রবার বা জুমার দিন। একে সপ্তাহের ঈদ বলা হয়। কোরআন ও হাদিসে এ দিনের বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলতের কথা উল্লেখ আছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী জাতিদের কাছে জুমার মর্যাদা গোপন রেখেছিলেন। ইহুদিরা শনিবার আর খ্রিস্টানরা রবিবারকে মর্যাদার দিন হিসেবে গ্রহণ করলেও মুসলমানদের জন্য আল্লাহ তাআলা জুমাকে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ করেছেন। ইসলামি ইতিহাসে এ দিনের গুরুত্ব অপরিসীম। রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিন শ্রেষ্ঠ হওয়ার পাঁচটি কারণ রয়েছে— এ দিনে হজরত আদম (আ.) সৃষ্টি হন, এ দিনেই তাকে পৃথিবীতে অবতরণ করানো হয়, এ দিনেই তার মৃত্যু হয়, এ দিনে এমন একটি বিশেষ মুহূর্ত আছে যখন দোয়া কবুল হয় এবং কিয়ামত সংঘটিত হবে জুমার দিনেই।

হাদিসে এসেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা এবং এক রমজান থেকে অন্য রমজান পর্যন্ত সময়ের মধ্যে করা গুনাহ ক্ষমা হয়ে যায় যদি বড় গুনাহ থেকে বিরত থাকে। আরেক বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিনে গোসল করে, পবিত্র হয়, সুগন্ধি ব্যবহার করে, মসজিদে এসে শান্তভাবে বসে খুতবা শোনে, তার দুই জুমার মধ্যবর্তী গুনাহ ক্ষমা করা হয়। আবার এ দিন গোসল করা এবং আগে মসজিদে যাওয়া বিশেষ সওয়াবের কাজ। হাদিসে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি সবার আগে মসজিদে প্রবেশ করে তার সওয়াব উট কোরবানির সমান, এরপর যার আগমন গরু, ছাগল, মুরগি ও ডিম সদকার সমান হয়।

জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, যখন বান্দার দোয়া অবশ্যই কবুল হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এ সময়টি আছরের পর শেষ ভাগে অনুসন্ধান করতে হবে। এছাড়া জুমার দিনের অন্যতম ফজিলতময় আমল হলো সুরা কাহাফ পাঠ করা। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় আলোকিত হয়ে থাকবে। এ দিন বেশি দরুদ পাঠ করাও অত্যন্ত উত্তম ইবাদত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো জুমার দিন। এ দিনেই আদম (আ.) সৃষ্টি হয়েছেন, এ দিনেই ইন্তেকাল করেছেন এবং এ দিনেই শিঙায় ফুঁ দেওয়া হবে। তাই তোমরা এ দিনে আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করো।”

নারীদের জন্যও জুমার দিনে বিশেষ কিছু আমল রয়েছে। যেমন—গোসল করা, দরুদ পাঠ, সুরা কাহাফ তিলাওয়াত, নখ কাটা, অযথা লোম পরিষ্কার ইত্যাদি। তবে নারীদের জন্য ঘরে জোহরের নামাজ আদায় করাই উত্তম। হাদিসে এসেছে, “নারীদের নামাজের উত্তম স্থান হলো তাদের ঘরের নির্জন কোণ।” তাই জুমার দিনে নারী-পুরুষ উভয়েই আমলের মাধ্যমে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও অশেষ সাওয়াব অর্জন করতে পারেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

জুমার দিনের ফজিলত ও বিশেষ আমল

আপডেট সময় : ০৫:৫৪:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫

ইসলামে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হলো শুক্রবার বা জুমার দিন। একে সপ্তাহের ঈদ বলা হয়। কোরআন ও হাদিসে এ দিনের বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলতের কথা উল্লেখ আছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী জাতিদের কাছে জুমার মর্যাদা গোপন রেখেছিলেন। ইহুদিরা শনিবার আর খ্রিস্টানরা রবিবারকে মর্যাদার দিন হিসেবে গ্রহণ করলেও মুসলমানদের জন্য আল্লাহ তাআলা জুমাকে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ করেছেন। ইসলামি ইতিহাসে এ দিনের গুরুত্ব অপরিসীম। রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিন শ্রেষ্ঠ হওয়ার পাঁচটি কারণ রয়েছে— এ দিনে হজরত আদম (আ.) সৃষ্টি হন, এ দিনেই তাকে পৃথিবীতে অবতরণ করানো হয়, এ দিনেই তার মৃত্যু হয়, এ দিনে এমন একটি বিশেষ মুহূর্ত আছে যখন দোয়া কবুল হয় এবং কিয়ামত সংঘটিত হবে জুমার দিনেই।

হাদিসে এসেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা এবং এক রমজান থেকে অন্য রমজান পর্যন্ত সময়ের মধ্যে করা গুনাহ ক্ষমা হয়ে যায় যদি বড় গুনাহ থেকে বিরত থাকে। আরেক বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিনে গোসল করে, পবিত্র হয়, সুগন্ধি ব্যবহার করে, মসজিদে এসে শান্তভাবে বসে খুতবা শোনে, তার দুই জুমার মধ্যবর্তী গুনাহ ক্ষমা করা হয়। আবার এ দিন গোসল করা এবং আগে মসজিদে যাওয়া বিশেষ সওয়াবের কাজ। হাদিসে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি সবার আগে মসজিদে প্রবেশ করে তার সওয়াব উট কোরবানির সমান, এরপর যার আগমন গরু, ছাগল, মুরগি ও ডিম সদকার সমান হয়।

জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, যখন বান্দার দোয়া অবশ্যই কবুল হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এ সময়টি আছরের পর শেষ ভাগে অনুসন্ধান করতে হবে। এছাড়া জুমার দিনের অন্যতম ফজিলতময় আমল হলো সুরা কাহাফ পাঠ করা। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় আলোকিত হয়ে থাকবে। এ দিন বেশি দরুদ পাঠ করাও অত্যন্ত উত্তম ইবাদত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো জুমার দিন। এ দিনেই আদম (আ.) সৃষ্টি হয়েছেন, এ দিনেই ইন্তেকাল করেছেন এবং এ দিনেই শিঙায় ফুঁ দেওয়া হবে। তাই তোমরা এ দিনে আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করো।”

নারীদের জন্যও জুমার দিনে বিশেষ কিছু আমল রয়েছে। যেমন—গোসল করা, দরুদ পাঠ, সুরা কাহাফ তিলাওয়াত, নখ কাটা, অযথা লোম পরিষ্কার ইত্যাদি। তবে নারীদের জন্য ঘরে জোহরের নামাজ আদায় করাই উত্তম। হাদিসে এসেছে, “নারীদের নামাজের উত্তম স্থান হলো তাদের ঘরের নির্জন কোণ।” তাই জুমার দিনে নারী-পুরুষ উভয়েই আমলের মাধ্যমে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও অশেষ সাওয়াব অর্জন করতে পারেন।