০৮:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কাগজে কলমে লাইনম্যান হলেও সে যেন অলিখিত জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার, নেপথ্যে কারা… Logo দেশে আসছে পেপাল, কার্ড পাবেন ২ লাখ ফ্রিল্যান্সার Logo শাশুড়ি হত্যা: বস্তাবন্দি লাশ ফেলে ‘নিখোঁজ’ নাটক, পুত্রবধূর চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি Logo সিলেট প্রেসক্লাবে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন আহ্বান Logo তনু হত্যা মামলা: ১০ বছর পর প্রথম গ্রেপ্তার ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর ৩ দিনের রিমান্ডে Logo ঢাকার প্রথম নারী ডিসি ফরিদা খানম Logo কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রচার করলে দ্রুত বিচার আইনে ব্যবস্থা Logo বড়লেখায় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থী ৩৮৩০, প্রথম দিনে অনুপস্থিত ২৫ জন Logo জুড়ীতে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু Logo ১০০ কোটির মালিক, তবু যাতায়াত অটোয়, ভাইরাল মুম্বইয়ের ব্যবসায়ীর জীবনযাত্রার পোস্ট!

শিক্ষক বদলীর দাবি তুললেন অভিভাবকরা

কুলাউড়ার মোবারকপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:২৫:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫
  • / 209
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নে অবস্থিত মোবারকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী অভিভাবক মোঃ রুনেল আহমদ, মাসুক মিয়া, মুহিদ আহমদ, সাহেদা আক্তার, পলি বেগম। যার অনুলিপি দেয়া হয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে।

অভিযোগসূত্রে জানা যায়, মোবারকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছেন। শিক্ষক রয়েছেন ৭জন। বিদ্যালয়ে পড়াশোনা ও অবকাঠামো সমস্যাসহ কয়েকজন শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলো হলো, বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক সময়মতো স্কুলে আসা-যাওয়া করেন না। বর্তমানে চলমান দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় অনেক শিক্ষক ও তাদের পছন্দের অভিভাবকরা পরীক্ষা চলাকালীন সময় ক্লাসে প্রবেশ করে এবং জানালা দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর বলে দেন। সচেতন অভিভাবকরা বিষয়গুলো নিয়ে প্রতিবাদ করলে আমলে না নিয়ে দূর্ব্যবহার করা হয়। বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম চলাকালীন সময় প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের আশে-পাশে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারের কাজ করাতে বাধ্য করেন। ক্লাস চলাকালীন সময়ে কিছু শিক্ষক মোবাইল ফোনালাপ করে থাকেন এবং ব্যক্তিগত কাজে প্রায়ই বাইরে চলে যান। বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মুজির উদ্দিন ও রেহানা আক্তার শিক্ষার্থীর সাথে ক্লাসে অশালীন আচরণ ও অভিভাবকদের সাথে দূর্ব্যবহার করেন।

ভুক্তভোগী অভিভাবক রুনেল আহমদ ও মাসুক মিয়া বলেন, স্কুলে অনেক অনিয়ম হচ্ছে। এসব দেখার কেউ নেই। সময়মত অনেক শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসেন না। বেশিরভাগ সময় সাড়ে দশটা থেকে এগোরটার পর আসেন। শিক্ষকরা স্থানীয় এলাকার হওয়ায় তারা নিজেদের খুশিমত বিদ্যালয়ে আসেন ও যান। তাই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উন্নত পাঠদানের স্বার্থে তাদের অন্যত্র বদলী করার দাবি জানাচ্ছি।

ভুক্তভোগী অভিভাবক পলি বেগমসহ আরো কয়েকজন বলেন, বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকরা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে অফিসে বসে খোশগল্পে ও আড্ডায় মেতে উঠেন। সময়মত স্কুলে আসেন না। তাদের নিয়মমাফিক আসা-যাওয়া করেন। এতে প্রকৃত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীদের উত্তর বলে দেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক লায়লা বেগম, মুজির উদ্দিন, রেহানা বেগমসহ কিছু অভিভাবক। এসব বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ দিলেও তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি।

ভুক্তভোগী অভিভাবক সাহেদা আক্তার বলেন, শিক্ষার্থীরা খুবই দুর্বল। তাদের সঠিকভাবে পড়াশোনা করানো হচ্ছে না। ক্লাস না করিয়ে তারা শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন দিয়ে দেয় বাড়ি থেকে উত্তর লিখে আনার জন্য। পরীক্ষার সময় কতিপয় শিক্ষকসহ অনেক অভিভাবকরা শ্রেণীকক্ষে প্রবেশ করে এবং জানালা দিয়ে প্রশ্নের উত্তর বলে দেন। এ নিয়ে সচেতন অভিভাবকরা প্রতিবাদ করলে তাদের সন্তানদের ক্লাসে হেনস্তা করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রজেস কান্তি দেবের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাই তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ষাটমা/এমরান/মহি

নিউজটি শেয়ার করুন

শিক্ষক বদলীর দাবি তুললেন অভিভাবকরা

কুলাউড়ার মোবারকপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

আপডেট সময় : ০৫:২৫:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নে অবস্থিত মোবারকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী অভিভাবক মোঃ রুনেল আহমদ, মাসুক মিয়া, মুহিদ আহমদ, সাহেদা আক্তার, পলি বেগম। যার অনুলিপি দেয়া হয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে।

অভিযোগসূত্রে জানা যায়, মোবারকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছেন। শিক্ষক রয়েছেন ৭জন। বিদ্যালয়ে পড়াশোনা ও অবকাঠামো সমস্যাসহ কয়েকজন শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলো হলো, বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক সময়মতো স্কুলে আসা-যাওয়া করেন না। বর্তমানে চলমান দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় অনেক শিক্ষক ও তাদের পছন্দের অভিভাবকরা পরীক্ষা চলাকালীন সময় ক্লাসে প্রবেশ করে এবং জানালা দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর বলে দেন। সচেতন অভিভাবকরা বিষয়গুলো নিয়ে প্রতিবাদ করলে আমলে না নিয়ে দূর্ব্যবহার করা হয়। বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম চলাকালীন সময় প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের আশে-পাশে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারের কাজ করাতে বাধ্য করেন। ক্লাস চলাকালীন সময়ে কিছু শিক্ষক মোবাইল ফোনালাপ করে থাকেন এবং ব্যক্তিগত কাজে প্রায়ই বাইরে চলে যান। বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মুজির উদ্দিন ও রেহানা আক্তার শিক্ষার্থীর সাথে ক্লাসে অশালীন আচরণ ও অভিভাবকদের সাথে দূর্ব্যবহার করেন।

ভুক্তভোগী অভিভাবক রুনেল আহমদ ও মাসুক মিয়া বলেন, স্কুলে অনেক অনিয়ম হচ্ছে। এসব দেখার কেউ নেই। সময়মত অনেক শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসেন না। বেশিরভাগ সময় সাড়ে দশটা থেকে এগোরটার পর আসেন। শিক্ষকরা স্থানীয় এলাকার হওয়ায় তারা নিজেদের খুশিমত বিদ্যালয়ে আসেন ও যান। তাই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উন্নত পাঠদানের স্বার্থে তাদের অন্যত্র বদলী করার দাবি জানাচ্ছি।

ভুক্তভোগী অভিভাবক পলি বেগমসহ আরো কয়েকজন বলেন, বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকরা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে অফিসে বসে খোশগল্পে ও আড্ডায় মেতে উঠেন। সময়মত স্কুলে আসেন না। তাদের নিয়মমাফিক আসা-যাওয়া করেন। এতে প্রকৃত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীদের উত্তর বলে দেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক লায়লা বেগম, মুজির উদ্দিন, রেহানা বেগমসহ কিছু অভিভাবক। এসব বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ দিলেও তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি।

ভুক্তভোগী অভিভাবক সাহেদা আক্তার বলেন, শিক্ষার্থীরা খুবই দুর্বল। তাদের সঠিকভাবে পড়াশোনা করানো হচ্ছে না। ক্লাস না করিয়ে তারা শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন দিয়ে দেয় বাড়ি থেকে উত্তর লিখে আনার জন্য। পরীক্ষার সময় কতিপয় শিক্ষকসহ অনেক অভিভাবকরা শ্রেণীকক্ষে প্রবেশ করে এবং জানালা দিয়ে প্রশ্নের উত্তর বলে দেন। এ নিয়ে সচেতন অভিভাবকরা প্রতিবাদ করলে তাদের সন্তানদের ক্লাসে হেনস্তা করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রজেস কান্তি দেবের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাই তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ষাটমা/এমরান/মহি