০৬:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্যারিসে উৎসবমুখর পরিবেশে বড়লেখা পৌরসভা ও সদর ইউনিয়নের প্রবাসীদের মিলনমেলা Logo যে কারণে বিশ্বকাপের আগে ইনস্টাগ্রামের সব পোস্ট ডিলিট করেন মাইকেল ওলিসে Logo মৌলভীবাজার চেম্বার অব কমার্সে প্রশাসক নিয়োগ, ১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচন Logo বড়লেখায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা Logo ছাত্রশিবির থেকে বিদায় নিলেন সাদিক কায়েম Logo প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর কৃতিত্ব Logo পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে মৌলভীবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা রাজনগর Logo বারাণসী সফরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, বিএইচইউ’র সঙ্গে একাডেমিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা Logo সুরমা ও কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ওপরে, সুনামগঞ্জে বন্যা শঙ্কা অব্যাহত Logo ঢাকায় আজও বৃষ্টি, ৪ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

উপহাস-ইসলামের দৃষ্টিতে এক গুরুতর অপরাধ

মাওলানা আব্দুর রহমান
  • আপডেট সময় : ১১:৫০:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫
  • / 180
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মানুষ স্বভাবতই আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন একটি প্রাণী। এই আত্মমর্যাদা ও সম্মানবোধ স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলা মানুষকে দান করেছেন। তিনি তাঁর সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানুষকে বৈচিত্র্যপূর্ণ রং, আকার ও আকৃতি দিয়ে তৈরি করেছেন।

তাই কোনো মানুষের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য, দুর্বলতা বা ভিন্নতা নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করা, উপহাস করা অথবা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা ইসলামের দৃষ্টিতে একটি গুরুতর অপরাধ। এটি মানুষের মৌলিক মানবিক অধিকার ও আত্মমর্যাদার ওপর আঘাত।

কেন উপহাস করা হারাম

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে উপহাস ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘হে মুমিনগণ, কেউ যেন অপর কাউকে উপহাস না করে।’ (সুরা হুজুরাত: ১১)

রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসলিমদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে বলেন, ‘এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। কেউ কারও ওপর অবিচার করবে না, কাউকে অপমানিত করবে না এবং অবজ্ঞা করবে না।’ (সহিহ্ মুসলিম: ২৫৬৪)

ইসলামে কোনো মানুষের মান-সম্মান নষ্ট হয় এমন সব কাজকে হারাম করা হয়েছে। গিবত, কুধারণা, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ এবং অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ানো—সবকিছুই এই নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত।

রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, ‘এক মুসলিমের রক্ত, সম্পদ ও মান-সম্মান অন্য মুসলিমের জন্য হারাম।’ (সহিহ্ মুসলিম: ২৫৬৪)

উপহাসের ভয়াবহ পরিণতি

যারা মানুষের সম্মানহানি করে, উপহাস ও বিদ্রূপে লিপ্ত হয়, তাদের জন্য ইসলামে কঠিন শাস্তির বিধান রয়েছে। উপহাস করাকে কোরআনে গুরুতর পাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘যারা পাপী তারা বিশ্বাসীদের উপহাস করত।’ (সুরা মাউন: ২৯)

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘একজন মানুষের জন্য এতটুকু অনিষ্টই যথেষ্ট যে সে তার মুসলিম ভাইকে হেয় করবে।’

উপহাস করা কাফেরদের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘কাফেরদের নিকট পার্থিব জীবন সুশোভিত করা হয়েছে। তারা মুমিনদের ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে থাকে।’ (সুরা বাকারা: ২১২)

উপহাসকারীদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি। আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর জন্য রয়েছে মহা দুর্গতি।’ (সুরা হুমাজাহ: ১)

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘অতঃপর তারা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেছিল, পরিণামে তাই বিদ্রূপকারীদের পরিবেষ্টন করেছে।’ (সুরা আনআম: ১০)

মানুষের সম্মান ও মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা একজন মুমিনের মৌলিক গুণ। আসুন, আমরা একে অপরকে সম্মান করি এবং বিদ্রূপের মতো নিন্দনীয় অভ্যাস থেকে নিজেদের দূরে রাখি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

উপহাস-ইসলামের দৃষ্টিতে এক গুরুতর অপরাধ

আপডেট সময় : ১১:৫০:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫

মানুষ স্বভাবতই আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন একটি প্রাণী। এই আত্মমর্যাদা ও সম্মানবোধ স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলা মানুষকে দান করেছেন। তিনি তাঁর সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানুষকে বৈচিত্র্যপূর্ণ রং, আকার ও আকৃতি দিয়ে তৈরি করেছেন।

তাই কোনো মানুষের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য, দুর্বলতা বা ভিন্নতা নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করা, উপহাস করা অথবা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা ইসলামের দৃষ্টিতে একটি গুরুতর অপরাধ। এটি মানুষের মৌলিক মানবিক অধিকার ও আত্মমর্যাদার ওপর আঘাত।

কেন উপহাস করা হারাম

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে উপহাস ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘হে মুমিনগণ, কেউ যেন অপর কাউকে উপহাস না করে।’ (সুরা হুজুরাত: ১১)

রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসলিমদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে বলেন, ‘এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। কেউ কারও ওপর অবিচার করবে না, কাউকে অপমানিত করবে না এবং অবজ্ঞা করবে না।’ (সহিহ্ মুসলিম: ২৫৬৪)

ইসলামে কোনো মানুষের মান-সম্মান নষ্ট হয় এমন সব কাজকে হারাম করা হয়েছে। গিবত, কুধারণা, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ এবং অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ানো—সবকিছুই এই নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত।

রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, ‘এক মুসলিমের রক্ত, সম্পদ ও মান-সম্মান অন্য মুসলিমের জন্য হারাম।’ (সহিহ্ মুসলিম: ২৫৬৪)

উপহাসের ভয়াবহ পরিণতি

যারা মানুষের সম্মানহানি করে, উপহাস ও বিদ্রূপে লিপ্ত হয়, তাদের জন্য ইসলামে কঠিন শাস্তির বিধান রয়েছে। উপহাস করাকে কোরআনে গুরুতর পাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘যারা পাপী তারা বিশ্বাসীদের উপহাস করত।’ (সুরা মাউন: ২৯)

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘একজন মানুষের জন্য এতটুকু অনিষ্টই যথেষ্ট যে সে তার মুসলিম ভাইকে হেয় করবে।’

উপহাস করা কাফেরদের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘কাফেরদের নিকট পার্থিব জীবন সুশোভিত করা হয়েছে। তারা মুমিনদের ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে থাকে।’ (সুরা বাকারা: ২১২)

উপহাসকারীদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি। আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর জন্য রয়েছে মহা দুর্গতি।’ (সুরা হুমাজাহ: ১)

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘অতঃপর তারা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেছিল, পরিণামে তাই বিদ্রূপকারীদের পরিবেষ্টন করেছে।’ (সুরা আনআম: ১০)

মানুষের সম্মান ও মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা একজন মুমিনের মৌলিক গুণ। আসুন, আমরা একে অপরকে সম্মান করি এবং বিদ্রূপের মতো নিন্দনীয় অভ্যাস থেকে নিজেদের দূরে রাখি।