০২:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo জুড়ীতে অবৈধভাবে মজুত করা ১৪ শ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ Logo জ্বালানি সংকটে বিয়ের অনুষ্ঠানে চমক, উপহার হিসেবে অকটেন পেলেব বর Logo বগুড়ায় তারার মেলা, কনকচাঁপা পেলেন আজীবন সম্মাননা Logo অভিজ্ঞতা ছাড়াই চাকরির সুযোগ মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে Logo রাষ্ট্রপতির উপ-প্রেস সচিব ও সহকারী প্রেস সচিব নিয়োগ Logo জাকসুকে ‘রাজনৈতিক স্বার্থে’ ব্যবহারের অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি Logo সুচিত্রা সেন: পাবনার এক সাধারণ মেয়ে থেকে মহানায়িকা হয়ে ওঠার গল্প Logo সিলেটের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মীর্জা জামাল পাশা আর নেই Logo বর্ণিল আয়োজনে এমসি কলেজে মোহনার বসন্ত বরণ উৎসব উদযাপন Logo ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নানা অনিয়মের দায়ে লাখ টাকা জরিমানা

উপহাস-ইসলামের দৃষ্টিতে এক গুরুতর অপরাধ

মাওলানা আব্দুর রহমান
  • আপডেট সময় : ১১:৫০:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫
  • / 124
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মানুষ স্বভাবতই আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন একটি প্রাণী। এই আত্মমর্যাদা ও সম্মানবোধ স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলা মানুষকে দান করেছেন। তিনি তাঁর সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানুষকে বৈচিত্র্যপূর্ণ রং, আকার ও আকৃতি দিয়ে তৈরি করেছেন।

তাই কোনো মানুষের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য, দুর্বলতা বা ভিন্নতা নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করা, উপহাস করা অথবা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা ইসলামের দৃষ্টিতে একটি গুরুতর অপরাধ। এটি মানুষের মৌলিক মানবিক অধিকার ও আত্মমর্যাদার ওপর আঘাত।

কেন উপহাস করা হারাম

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে উপহাস ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘হে মুমিনগণ, কেউ যেন অপর কাউকে উপহাস না করে।’ (সুরা হুজুরাত: ১১)

রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসলিমদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে বলেন, ‘এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। কেউ কারও ওপর অবিচার করবে না, কাউকে অপমানিত করবে না এবং অবজ্ঞা করবে না।’ (সহিহ্ মুসলিম: ২৫৬৪)

ইসলামে কোনো মানুষের মান-সম্মান নষ্ট হয় এমন সব কাজকে হারাম করা হয়েছে। গিবত, কুধারণা, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ এবং অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ানো—সবকিছুই এই নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত।

রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, ‘এক মুসলিমের রক্ত, সম্পদ ও মান-সম্মান অন্য মুসলিমের জন্য হারাম।’ (সহিহ্ মুসলিম: ২৫৬৪)

উপহাসের ভয়াবহ পরিণতি

যারা মানুষের সম্মানহানি করে, উপহাস ও বিদ্রূপে লিপ্ত হয়, তাদের জন্য ইসলামে কঠিন শাস্তির বিধান রয়েছে। উপহাস করাকে কোরআনে গুরুতর পাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘যারা পাপী তারা বিশ্বাসীদের উপহাস করত।’ (সুরা মাউন: ২৯)

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘একজন মানুষের জন্য এতটুকু অনিষ্টই যথেষ্ট যে সে তার মুসলিম ভাইকে হেয় করবে।’

উপহাস করা কাফেরদের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘কাফেরদের নিকট পার্থিব জীবন সুশোভিত করা হয়েছে। তারা মুমিনদের ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে থাকে।’ (সুরা বাকারা: ২১২)

উপহাসকারীদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি। আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর জন্য রয়েছে মহা দুর্গতি।’ (সুরা হুমাজাহ: ১)

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘অতঃপর তারা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেছিল, পরিণামে তাই বিদ্রূপকারীদের পরিবেষ্টন করেছে।’ (সুরা আনআম: ১০)

মানুষের সম্মান ও মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা একজন মুমিনের মৌলিক গুণ। আসুন, আমরা একে অপরকে সম্মান করি এবং বিদ্রূপের মতো নিন্দনীয় অভ্যাস থেকে নিজেদের দূরে রাখি।

নিউজটি শেয়ার করুন

উপহাস-ইসলামের দৃষ্টিতে এক গুরুতর অপরাধ

আপডেট সময় : ১১:৫০:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫

মানুষ স্বভাবতই আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন একটি প্রাণী। এই আত্মমর্যাদা ও সম্মানবোধ স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলা মানুষকে দান করেছেন। তিনি তাঁর সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানুষকে বৈচিত্র্যপূর্ণ রং, আকার ও আকৃতি দিয়ে তৈরি করেছেন।

তাই কোনো মানুষের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য, দুর্বলতা বা ভিন্নতা নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করা, উপহাস করা অথবা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা ইসলামের দৃষ্টিতে একটি গুরুতর অপরাধ। এটি মানুষের মৌলিক মানবিক অধিকার ও আত্মমর্যাদার ওপর আঘাত।

কেন উপহাস করা হারাম

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে উপহাস ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘হে মুমিনগণ, কেউ যেন অপর কাউকে উপহাস না করে।’ (সুরা হুজুরাত: ১১)

রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসলিমদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে বলেন, ‘এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। কেউ কারও ওপর অবিচার করবে না, কাউকে অপমানিত করবে না এবং অবজ্ঞা করবে না।’ (সহিহ্ মুসলিম: ২৫৬৪)

ইসলামে কোনো মানুষের মান-সম্মান নষ্ট হয় এমন সব কাজকে হারাম করা হয়েছে। গিবত, কুধারণা, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ এবং অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ানো—সবকিছুই এই নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত।

রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, ‘এক মুসলিমের রক্ত, সম্পদ ও মান-সম্মান অন্য মুসলিমের জন্য হারাম।’ (সহিহ্ মুসলিম: ২৫৬৪)

উপহাসের ভয়াবহ পরিণতি

যারা মানুষের সম্মানহানি করে, উপহাস ও বিদ্রূপে লিপ্ত হয়, তাদের জন্য ইসলামে কঠিন শাস্তির বিধান রয়েছে। উপহাস করাকে কোরআনে গুরুতর পাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘যারা পাপী তারা বিশ্বাসীদের উপহাস করত।’ (সুরা মাউন: ২৯)

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘একজন মানুষের জন্য এতটুকু অনিষ্টই যথেষ্ট যে সে তার মুসলিম ভাইকে হেয় করবে।’

উপহাস করা কাফেরদের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘কাফেরদের নিকট পার্থিব জীবন সুশোভিত করা হয়েছে। তারা মুমিনদের ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে থাকে।’ (সুরা বাকারা: ২১২)

উপহাসকারীদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি। আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর জন্য রয়েছে মহা দুর্গতি।’ (সুরা হুমাজাহ: ১)

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘অতঃপর তারা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেছিল, পরিণামে তাই বিদ্রূপকারীদের পরিবেষ্টন করেছে।’ (সুরা আনআম: ১০)

মানুষের সম্মান ও মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা একজন মুমিনের মৌলিক গুণ। আসুন, আমরা একে অপরকে সম্মান করি এবং বিদ্রূপের মতো নিন্দনীয় অভ্যাস থেকে নিজেদের দূরে রাখি।