০৯:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শিল্পী সমিতির নির্বাচনে দুই কিংবদন্তির সন্তানের প্যানেল Logo জুড়ীতে ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’র আহ্বায়ক কমিটি গঠন Logo কুলাউড়া ইয়াকুব তাজুল মহিলা কলেজের পক্ষ থেকে বিদায়ী ইউএনও’কে সম্মাননা প্রদান Logo বড়লেখায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর Logo বড়লেখায় জনদুর্ভোগ নিরসনে নবাগত ইউএনও’র সাথে নিসচা’র মতবিনিময় Logo হাওর লুটপাটকারীদের রোষানলে জুড়ীর মৎস্য কর্মকর্তা Logo বড়লেখা সরকারি কলেজে ঐতিহাসিক কোরআন দিবস পালন Logo অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া বার্তা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর, ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের ঘোষণা Logo ঢাবির সহকারী প্রক্টর শেহরীন মোনামির পদত্যাগ Logo রিয়ালকে হারিয়েই লিগ শিরোপা জিতল বার্সা

ছাগল খাওয়ায় অজগরকে পিটিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ০২:৩৪:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫
  • / 304
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ছাগল শিকারের অপরাধে একটি বিশাল আকৃতির অজগর সাপকে পিটিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয় লোকজন। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেলে উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা বোবরথলের করইছড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যে আলোচনার ঝড় ওঠে। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পরিবেশকর্মীরাও। ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বন বিভাগ।

ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, একটি অজগর সাপকে হত্যা করার পর সেটিকে ঘিরে স্থানীয় বেশ কিছু মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন। পাশে পড়ে আছে একটি মৃত ছাগল। উপস্থিত অনেকের হাতেই লাঠি ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরে করইছড়া গ্রামে একের পর এক ছাগল নিখোঁজ হচ্ছিল। প্রথমে তারা চুরির সন্দেহ করলেও বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি অজগর সাপকে একটি ছাগল গিলতে দেখে সবাই নিশ্চিত হন সাপটিই তাদের ছাগল শিকার করছে। এরপর স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাপটিকে ঘিরে ফেলেন এবং একপর্যায়ে আক্রমণ চালিয়ে সাপটিকে হত্যা করেন।

দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শুনেছি বোবরথল এলাকায় কয়েকটি ছাগল অজগর খেয়ে ফেলেছিল। এরপরই গ্রামবাসীরা একটি ছাগল খাওয়ার সময় অজগরটিকে দেখে পিটিয়ে মেরে ফেলে।

পরিবেশকর্মীরা ঘটনাটিকে বন্যপ্রাণী হত্যার উদ্বেগজনক নিদর্শন হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, বন্যপ্রাণীরা পরিবেশের অংশ, তারা আমাদের শত্রু নয়। একটি ছাগল খাওয়াকে কেন্দ্র করে অজগরের মতো মূল্যবান প্রাণীকে পিটিয়ে মারা দুঃখজনক ও ন্যক্কারজনক। এটি শুধু অমানবিক নয়, আইনগতভাবেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ঘটনা প্রমাণ করে আমরা এখনও বন্যপ্রাণী বিষয়ে সচেতন নই। বন বিভাগের উচিত দুর্গম এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো, নইলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

এদিকে ঘটনার পর স্থানীয়রা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তারা জানান, আমরা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে ফোন করি। তিনি জানতে চান সাপটি বেঁচে আছে কি না। আমরা বলি যে সাপটি মেরে ফেলা হয়েছে। তখন তিনি বলেন, যেহেতু সাপটি মারা গেছে, তাই এ মুহূর্তে তাদের কিছু করণীয় নেই।

এ বিষয়ে বড়লেখা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. রেজাউল মৃধা বলেন, আমরা বিষয়টি জানার পরই বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগকে জানিয়েছি। তারা ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী এ ধরনের প্রাণী হত্যা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা ও সচেতনতার পাশাপাশি বন্যপ্রাণী রক্ষায় প্রশাসনের উদ্যোগ ও তৎপরতা আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

ষাটমাকন্ঠ/রুমেল/এমরান

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ছাগল খাওয়ায় অজগরকে পিটিয়ে হত্যা

আপডেট সময় : ০২:৩৪:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ছাগল শিকারের অপরাধে একটি বিশাল আকৃতির অজগর সাপকে পিটিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয় লোকজন। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেলে উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা বোবরথলের করইছড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যে আলোচনার ঝড় ওঠে। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পরিবেশকর্মীরাও। ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বন বিভাগ।

ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, একটি অজগর সাপকে হত্যা করার পর সেটিকে ঘিরে স্থানীয় বেশ কিছু মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন। পাশে পড়ে আছে একটি মৃত ছাগল। উপস্থিত অনেকের হাতেই লাঠি ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরে করইছড়া গ্রামে একের পর এক ছাগল নিখোঁজ হচ্ছিল। প্রথমে তারা চুরির সন্দেহ করলেও বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি অজগর সাপকে একটি ছাগল গিলতে দেখে সবাই নিশ্চিত হন সাপটিই তাদের ছাগল শিকার করছে। এরপর স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাপটিকে ঘিরে ফেলেন এবং একপর্যায়ে আক্রমণ চালিয়ে সাপটিকে হত্যা করেন।

দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শুনেছি বোবরথল এলাকায় কয়েকটি ছাগল অজগর খেয়ে ফেলেছিল। এরপরই গ্রামবাসীরা একটি ছাগল খাওয়ার সময় অজগরটিকে দেখে পিটিয়ে মেরে ফেলে।

পরিবেশকর্মীরা ঘটনাটিকে বন্যপ্রাণী হত্যার উদ্বেগজনক নিদর্শন হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, বন্যপ্রাণীরা পরিবেশের অংশ, তারা আমাদের শত্রু নয়। একটি ছাগল খাওয়াকে কেন্দ্র করে অজগরের মতো মূল্যবান প্রাণীকে পিটিয়ে মারা দুঃখজনক ও ন্যক্কারজনক। এটি শুধু অমানবিক নয়, আইনগতভাবেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ঘটনা প্রমাণ করে আমরা এখনও বন্যপ্রাণী বিষয়ে সচেতন নই। বন বিভাগের উচিত দুর্গম এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো, নইলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

এদিকে ঘটনার পর স্থানীয়রা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তারা জানান, আমরা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে ফোন করি। তিনি জানতে চান সাপটি বেঁচে আছে কি না। আমরা বলি যে সাপটি মেরে ফেলা হয়েছে। তখন তিনি বলেন, যেহেতু সাপটি মারা গেছে, তাই এ মুহূর্তে তাদের কিছু করণীয় নেই।

এ বিষয়ে বড়লেখা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. রেজাউল মৃধা বলেন, আমরা বিষয়টি জানার পরই বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগকে জানিয়েছি। তারা ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী এ ধরনের প্রাণী হত্যা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা ও সচেতনতার পাশাপাশি বন্যপ্রাণী রক্ষায় প্রশাসনের উদ্যোগ ও তৎপরতা আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

ষাটমাকন্ঠ/রুমেল/এমরান