বিসিএসে সাফল্য অর্জন করায় বড়লেখা-জুড়ীর তিন সন্তানকে অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ নাগরিক সংঘের সংবর্ধনা
- আপডেট সময় : ১১:৩৯:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
- / 258
৪৪তম বিসিএস পরীক্ষায় গৌরবজনক সাফল্য অর্জন করেছেন মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার তিন মেধাবী শিক্ষার্থী। তারা হলেন, শিক্ষা ক্যাডারে সুমনা আক্তার সুমি, সমবায় ক্যাডারে আরিফ আহমদ এবং পুলিশ ক্যাডারে মোহাম্মদ শরিফ উদ্দিন। এই তিন কৃতিকে সংবর্ধনা জানাতে Ceremony of the Achievers শীর্ষক এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের আয়োজন করে অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ নাগরিক সংঘ।
পাপলু আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ নাগরিক সংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য মদরিস আলী। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুস সত্তার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বড়লেখা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ তোফায়েল আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ফুলতলা সাগরনাল শাহ নিমাত্রা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন, টিএন খানম সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ অরুন চন্দ্র দাশ, পাথারিয়া গাংকুল মনসুরিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ এফ এইচ এম ইউসুফ আলী, বড়লেখা সরকারি কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল আব্দুর সবুর, বড়লেখা উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রেহানা বেগম, দক্ষিণভাগ মোহাম্মদীয়া দারুল হাদিস টাইটেল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা কাওসার আহমদ, নারী শিক্ষা একাডেমি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক (ইংরেজি) সবুজ মোসারফ হোসেন, পাথারিয়া গাংকুল মনসুরিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক (ইংরেজি) মোহাইবিন ইসলাম, বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক (বাংলা) জসিম উদ্দিন, দক্ষিণভাগ এন সি এম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসুক আহমদ এবং কাঠালতলী হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক লুৎফুর রহমান চুন্নু।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ৪৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ এই তিন কৃতি সন্তানের অর্জন কেবল তাদের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি পুরো বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার জন্য এক বিরল গৌরব ও অনুপ্রেরণার উৎস। তারা বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতি ও সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও এই তরুণরা কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। আজ তারা শুধু পরিবার বা এলাকার নয়, গোটা জাতির সম্পদে পরিণত হয়েছেন।
বক্তারা আরও বলেন, একজন বিসিএস কর্মকর্তা শুধু প্রশাসনের চাকরি করেন না, তিনি দেশ গঠনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখেন। আর এই তরুণদের মধ্যে আমরা ভবিষ্যতের নেতৃত্ব ও নৈতিকতা দেখতে পাই। তারা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।

অনেকেই বলেন, এই তিনজনের সাফল্য প্রমাণ করে, যদি ইচ্ছা থাকে, তবে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হওয়া সম্ভব। আজকের প্রজন্ম যদি এই পথ অনুসরণ করে, তাহলে শিক্ষার আলো ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে একটি প্রগতিশীল সমাজ গঠন সম্ভব হবে। বক্তারা নতুন প্রজন্মকে এই সাফল্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজ নিজ জায়গা থেকে দেশ ও জাতির কল্যাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তাঁরা পরিবারের উৎসাহ, শিক্ষকদের ত্যাগ ও সমাজের সহায়তাকেও কৃতিত্বের অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক ও স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন। সংবর্ধিত অতিথিদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। আয়োজনজুড়ে ছিলো এক আন্তরিক, গর্বিত এবং উৎসবমুখর পরিবেশ।
























