এক মাসের মধ্যে নিহত পরিবারের মাঝে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার আহ্বান
প্রশাসনকে কঠোর বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় জামায়াত নেতা সেলিম উদ্দিন
- আপডেট সময় : ১২:৪৯:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫
- / 278
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, একটা সম্ভাবনাময় মেয়ে চলে গেল সে অনার্স ভর্তি পরিক্ষার্থী ছিল। একটা মোটরসাইকেল তাকে আঘাত করলো তারপর সে মারা গেলো এই ঘটনা কি সে দরিদ্র পরিবারের মেয়ে হওয়ার কারণে এভাবে সহজে চলে গেল। এই মোটরসাইকেল চালকটা কে, বা যে ভ্যানের নিচে পড়ে মারা গেল সেই ভ্যান চালকটা কে, প্রশাসন তাদের ধরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের দরকার ছিলো না? তাদের উচিত ছিলো মোটরসাইকেল চালককে গ্রেফতার করা। অন্ততপক্ষে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। সে কেন দ্বায়মুক্ত হবে। অব্যশই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে এবং কারো দ্বায় থাকলে তাকে চিহ্নিত করতে হবে। উপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়ে এই মেয়ের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
রোববার (২৯ জুন) সকাল ১০ টায় মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের আলীমপুর গ্রামের সোহেনা আক্তারের বাড়িতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কলেজ ছাত্রী সোহেনা আক্তারের পরিবারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে মেয়ের পরিবারকে সহযোগিতা করতে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
সেলিম উদ্দিন বলেন, এই যে একটা মেয়ে মরে গেল রাষ্ট্রের কোন দ্বায় নেই, কি রাষ্ট্র আমরা বানিয়েছি, কি অমাবিক রাষ্ট্র, আমরা এই রাষ্ট্র চাই না। আমরা চাই সমাজের প্রতিটা নাগরিকের যথাযথ সম্মান থাকবে, মর্যাদা থাকবে, প্রত্যেকটা নাগরিক এই দেশের নাগরিক হিসেবে মূল্য থাকবে। সাধারণ একজন খেটে খাওয়া মানুষের বিপদ হলে এটাকে যেন হালকাভাবে দেখা না হয়। শুধু প্রভাবশালীদের মূল্য থাকবে আর সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের মূল্য থাকবে না আমরা এ রাষ্ট্র চাই না, আমরা এ বৈষম্য চাই না।
তিনি বলেন, আমাদের ছাত্ররা রক্ত দিয়েছে বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমরা আর নতুন করে বৈষম্য চাই না, আমরা ইনজাস্টিস চাই না জাস্টিস চাই। সেজন্য জনগণের বিরাট দ্বায় আছে। প্রকৃত অর্থ এখন আপনারা দেশের মালিক। আপনারা যাকে পছন্দ করবেন সেই আগামীদিনের নেতা হবে এই চয়েজে যেন ভূল না হয়। ৫৪ বছরে সুযোগ এসেছে মানবিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সবাই কাজে নামুন। এই সমাজ নষ্ট হয়েছে অসৎ নেতৃত্বের কারণে, অমানবিক নেতৃত্বের কারণে, জনগণকে বোজান এইবার আর যাকে-তাকে নেতা বানাবেন না।
তিনি বড়লেখা ও বিয়ানীবাজার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-কে উদ্দেশ্যে করে বলেন, আপনারা অনতিবিলম্বে এই বাড়ি ভিজিট করবেন এবং তদন্ত করবেন, তদন্ত কমিটি গঠন করবেন যদি কারও কোন দ্বায় আপনারা না পান তাহলে অহেতুক কাউকে অভিযোগ দরকার নেই তবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই পরিবারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে তার পিতা-মাতাকে সান্ত্বনা দিবেন এবং সম্মানিত করবেন। এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব এখনতো ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র নয়। এটা শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুসের রাষ্ট্র সুতরাং ইউনুস সাহেবের সরকারের যারা লোকাল লেভেলে আছেন আপনারা উপরে জানান ইউনুস সাহেবের দপ্তর থেকে এ সাহায্য পাঠানো হবে।
তিনি আরোও বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে এই পরিবারে রাষ্ট্রীয় সাহায্য দেখতে চাই। আর তদন্ত পূর্বক হ্যা অথবা না একটা বলতে হবে। কেই দোষী অথবা দোষি না। আমরা অস্পষ্ট থাকতে চাই না। আমরা জানতে চাই কারও দ্বায় আছে কি-না, না থাকলে নাই, থাকলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং এই পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ তাদের মাধ্যমে ব্যবস্থা করতে হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন নিহত কলেজ ছাত্রীর পিতা আবুল হোসেন, বিয়ানীবাজার উপজেলা জামায়াতের আমির ফয়জুর রহমান, বড়লেখা উপজেলা আমির এমাদুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল বাছিত, ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আকবর আলী, উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা বদরুল ইসলাম, উত্তর শিবিরের সভাপতি জাবেদ আহমদ প্রমুখ।
প্রসঙ্গত: গত (৩১ মে) বিয়ানীবাজারে মোটরসাইকেল ও সিমেন্টবাহী কাভার্ড ভ্যানের মাঝে পড়ে কলেজ ছাত্রী সোহেনা আক্তার (২২) মারা যান। তিনি বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের আলীমপুর গ্রামের আবুল হোসেনের মেয়ে। নিহত সোহেনা আক্তার বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।





















