০৩:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সিলেট প্রেসক্লাবে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন আহ্বান Logo তনু হত্যা মামলা: ১০ বছর পর প্রথম গ্রেপ্তার ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর ৩ দিনের রিমান্ডে Logo ঢাকার প্রথম নারী ডিসি ফরিদা খানম Logo কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রচার করলে দ্রুত বিচার আইনে ব্যবস্থা Logo বড়লেখায় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থী ৩৮৩০, প্রথম দিনে অনুপস্থিত ২৫ জন Logo জুড়ীতে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু Logo ১০০ কোটির মালিক, তবু যাতায়াত অটোয়, ভাইরাল মুম্বইয়ের ব্যবসায়ীর জীবনযাত্রার পোস্ট! Logo ফ্রান্সের অরলিয়ন্সে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত Logo ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে মৌলভীবাজারের যুবক নিহত Logo জামায়াত এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

এভারেস্ট বেজক্যাম্প অভিযানে স্লোগান ছিল ‘যুদ্ধ নয় শান্তি চাই, সবুজ বিশ্ব গড়তে চাই।’

সজল খালেদ স্মরণে গাজী মুনছুর আজিজের এভারেস্ট বেজক্যাম্প বিজয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৭:৪২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫
  • / 374
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অভিযান এমনও হয়। একটা বিশেষ লক্ষে। এভারেস্টজয়ী সজল খালেদ প্রয়াত হন এভারেস্টেই। সেই বন্ধুর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসাই লেখক ও গবেষক গাজী মুনছুর আজিজকে তাড়িত করেছে এভারেস্ট বেজক্যাম্প অভিযানে। এই অভিযাত্রা নিছক রোমাঞ্চযাত্রা ছিল না; বরং ছিল আরও একটা তাগিদ। যেটা আমরা অনেকেই হয়তো অনুভব করি। আজিজ সেটি প্রকাশ করেছেন। তাই তো তাঁর স্লোগান ছিল ‘যুদ্ধ নয় শান্তি চাই, সবুজ বিশ্ব গড়তে চাই।’

 

১৩ জুন বেলা পৌনে তিনটায় তিনি বেজক্যাম্পে পৌঁছান। তাঁর অভিযান শুরু হয়েছিল ৬ জুন সকালে নেপালের লুকলা থেকে। অষ্টম দিনের মাথায় তিনি পৌঁছান পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের বেজক্যাম্পে। এর উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫ হাজার ৩৬৪ মিটার ওপরে।
গাজী মুনছুর আজিজ বলেন, ২০১৩ সালের ২০ মে এভারেস্ট জয় করে নামার পথে সজল মারা যান। এখন বাংলাদেশের অনেকেই এভারেস্ট জয় করেছেন, সবাই তাঁদের গল্প শুনছেন। আমি মনে করি, তাদের সঙ্গে সজলের গল্পটাও মানুষ জানুক। সে জন্যই তাঁকে স্মরণ করে আমার এ অভিযান।
এ ছাড়া ২০০৭ সালে ইনাম আল হকের পরিকল্পনায় এবং সজলের উদ্যোগে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে দেশে প্রথমবারের মতো বাংলা ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০০৯ ও ২০১০ সালেও সজলের উদ্যোগে ম্যারাথন হয়। সজল মারা যাওয়ার পর আর বাংলা ম্যারাথন হয়নি। এরপর সজলকে স্মরণ করে ২০১৭ সাল থেকে প্রতিবছর মেরিন ড্রাইভে একক ম্যারাথন করে আসছেন আজিজ। এখন বাংলাদেশে প্রচুর ম্যারাথন প্রতিযোগিতা হচ্ছে। তাই বাংলাদেশে ম্যারাথনের শুরুর গল্পটাও মানুষকে জানাতে চান তিনি। কারণ, তিনি বলেন, সজল চেয়েছিলেন ম্যারাথনের মাধ্যমে কক্সবাজারসহ বাংলাদেশের পর্যটনকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করে তুলতে এবং একই সঙ্গে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা দিতে।

তিনি আরও বলেন, ‘ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে যারা এ অভিযানে সম্পৃক্ত হয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। বিশেষ ধন্যবাদ বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও বাংলাদেশে পর্বতারোহণের স্বপ্নদ্রষ্টা ইনাম আল হক এবং বিএমটিসি ক্লাবের প্রতি। এ ছাড়া ধন্যবাদ অল্টিচিউড হান্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌফিক আহমেদ তমালের প্রতি; তার সার্বিক সহযোগিতায় এ অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করি।’

 

 

গাজী মুনছুর আজিজ গত ৪ জুন নেপালের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। এভারেস্টজয়ী সজল খালেদ স্মরণে তার এ অভিযান। পর্বতারোহী সজল খালেদ মাউন্ট এভারেস্টজয়ী ৫ম বাংলাদেশি। ২০১৩ সালের ২০ মে সকাল ১০টায় পর্বতটির চূড়ায় তিনি বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। সেখান থেকে নেমে আসার সময় ডেথ জোনে তিনি মারা যান। সেখানেই চিরনিদ্রায় আছেন ওই তরুণ পর্বতারোহী।

গাজী মুনছুর আজিজ বলেন, আমরা একটি যুদ্ধমুক্ত পৃথিবী দেখতে চাই, যেখানে বোমার আঘাতে একটি শিশুও মারা যাবে না। এ ছাড়া একটি দূষণমুক্ত বিশ্ব গড়তে চাই, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বাঁচবে নির্মল আনন্দে।

বন্ধুর ইচ্ছা পূরণ ও তাঁর অসমাপ্ত কাজকে পূর্ণতা দিতেই লক্ষে অবিচল আছেন গাজী মুনছুর আজিজ। তিনি বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব এবং বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সদস্য। ভ্রমণ বিষয়ে তাঁর বেশ কয়েকটি বইও বের হয়েছে। গেল একুশে বইমেলায় বের হয়েছে তার ভ্রমণবিষয়ক বই ‘পাখির খোঁজে বাংলাজুড়ে’। বিভিন্ন ম্যারাথন প্রতিযোগিতা, সাইকেল অভিযানসহ নিয়মিত ভ্রমণ ও অভিযানে বের হন। এ ছাড়া পরিবেশ সচেতনতায় গাছ লাগানোসহ নিয়মিত বিভিন্ন কার্যক্রম করে থাকেন গাজী মুনছুর আজিজ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এভারেস্ট বেজক্যাম্প অভিযানে স্লোগান ছিল ‘যুদ্ধ নয় শান্তি চাই, সবুজ বিশ্ব গড়তে চাই।’

সজল খালেদ স্মরণে গাজী মুনছুর আজিজের এভারেস্ট বেজক্যাম্প বিজয়

আপডেট সময় : ০৭:৪২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫

অভিযান এমনও হয়। একটা বিশেষ লক্ষে। এভারেস্টজয়ী সজল খালেদ প্রয়াত হন এভারেস্টেই। সেই বন্ধুর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসাই লেখক ও গবেষক গাজী মুনছুর আজিজকে তাড়িত করেছে এভারেস্ট বেজক্যাম্প অভিযানে। এই অভিযাত্রা নিছক রোমাঞ্চযাত্রা ছিল না; বরং ছিল আরও একটা তাগিদ। যেটা আমরা অনেকেই হয়তো অনুভব করি। আজিজ সেটি প্রকাশ করেছেন। তাই তো তাঁর স্লোগান ছিল ‘যুদ্ধ নয় শান্তি চাই, সবুজ বিশ্ব গড়তে চাই।’

 

১৩ জুন বেলা পৌনে তিনটায় তিনি বেজক্যাম্পে পৌঁছান। তাঁর অভিযান শুরু হয়েছিল ৬ জুন সকালে নেপালের লুকলা থেকে। অষ্টম দিনের মাথায় তিনি পৌঁছান পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের বেজক্যাম্পে। এর উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫ হাজার ৩৬৪ মিটার ওপরে।
গাজী মুনছুর আজিজ বলেন, ২০১৩ সালের ২০ মে এভারেস্ট জয় করে নামার পথে সজল মারা যান। এখন বাংলাদেশের অনেকেই এভারেস্ট জয় করেছেন, সবাই তাঁদের গল্প শুনছেন। আমি মনে করি, তাদের সঙ্গে সজলের গল্পটাও মানুষ জানুক। সে জন্যই তাঁকে স্মরণ করে আমার এ অভিযান।
এ ছাড়া ২০০৭ সালে ইনাম আল হকের পরিকল্পনায় এবং সজলের উদ্যোগে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে দেশে প্রথমবারের মতো বাংলা ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০০৯ ও ২০১০ সালেও সজলের উদ্যোগে ম্যারাথন হয়। সজল মারা যাওয়ার পর আর বাংলা ম্যারাথন হয়নি। এরপর সজলকে স্মরণ করে ২০১৭ সাল থেকে প্রতিবছর মেরিন ড্রাইভে একক ম্যারাথন করে আসছেন আজিজ। এখন বাংলাদেশে প্রচুর ম্যারাথন প্রতিযোগিতা হচ্ছে। তাই বাংলাদেশে ম্যারাথনের শুরুর গল্পটাও মানুষকে জানাতে চান তিনি। কারণ, তিনি বলেন, সজল চেয়েছিলেন ম্যারাথনের মাধ্যমে কক্সবাজারসহ বাংলাদেশের পর্যটনকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করে তুলতে এবং একই সঙ্গে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা দিতে।

তিনি আরও বলেন, ‘ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে যারা এ অভিযানে সম্পৃক্ত হয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। বিশেষ ধন্যবাদ বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও বাংলাদেশে পর্বতারোহণের স্বপ্নদ্রষ্টা ইনাম আল হক এবং বিএমটিসি ক্লাবের প্রতি। এ ছাড়া ধন্যবাদ অল্টিচিউড হান্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌফিক আহমেদ তমালের প্রতি; তার সার্বিক সহযোগিতায় এ অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করি।’

 

 

গাজী মুনছুর আজিজ গত ৪ জুন নেপালের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। এভারেস্টজয়ী সজল খালেদ স্মরণে তার এ অভিযান। পর্বতারোহী সজল খালেদ মাউন্ট এভারেস্টজয়ী ৫ম বাংলাদেশি। ২০১৩ সালের ২০ মে সকাল ১০টায় পর্বতটির চূড়ায় তিনি বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। সেখান থেকে নেমে আসার সময় ডেথ জোনে তিনি মারা যান। সেখানেই চিরনিদ্রায় আছেন ওই তরুণ পর্বতারোহী।

গাজী মুনছুর আজিজ বলেন, আমরা একটি যুদ্ধমুক্ত পৃথিবী দেখতে চাই, যেখানে বোমার আঘাতে একটি শিশুও মারা যাবে না। এ ছাড়া একটি দূষণমুক্ত বিশ্ব গড়তে চাই, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বাঁচবে নির্মল আনন্দে।

বন্ধুর ইচ্ছা পূরণ ও তাঁর অসমাপ্ত কাজকে পূর্ণতা দিতেই লক্ষে অবিচল আছেন গাজী মুনছুর আজিজ। তিনি বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব এবং বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সদস্য। ভ্রমণ বিষয়ে তাঁর বেশ কয়েকটি বইও বের হয়েছে। গেল একুশে বইমেলায় বের হয়েছে তার ভ্রমণবিষয়ক বই ‘পাখির খোঁজে বাংলাজুড়ে’। বিভিন্ন ম্যারাথন প্রতিযোগিতা, সাইকেল অভিযানসহ নিয়মিত ভ্রমণ ও অভিযানে বের হন। এ ছাড়া পরিবেশ সচেতনতায় গাছ লাগানোসহ নিয়মিত বিভিন্ন কার্যক্রম করে থাকেন গাজী মুনছুর আজিজ।