১২:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হলেন ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী Logo কে এই সাইফুর? এমসি কলেজের আলোচিত ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামির উত্থান, অপরাধ ও পরিণতি Logo মর্যাদাপূর্ণ বেঙ্গল ব্রিটিশ আইকন অ্যাওয়ার্ডে সম্মানিত রাগীব আলীকে লিডিং ইউনিভার্সিটির সংবর্ধনা Logo স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের চেতনায় আজ ফ্রান্সের জাতীয় দিবস Logo প্যারিসে উৎসবমুখর পরিবেশে বড়লেখা পৌরসভা ও সদর ইউনিয়নের প্রবাসীদের মিলনমেলা Logo যে কারণে বিশ্বকাপের আগে ইনস্টাগ্রামের সব পোস্ট ডিলিট করেন মাইকেল ওলিসে Logo মৌলভীবাজার চেম্বার অব কমার্সে প্রশাসক নিয়োগ, ১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচন Logo বড়লেখায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা Logo ছাত্রশিবির থেকে বিদায় নিলেন সাদিক কায়েম Logo প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর কৃতিত্ব

৩৮ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি

বড়লেখায় শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা: কাঁদলেন ও কাঁদালেন

আফজাল হোসেন রুমেল, ষাটমা কন্ঠঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৯:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫
  • / 508
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দক্ষিণভাগ এনসিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রনজয় কুমার দাস ৩৮ বছরের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন। বৃহস্পতিবার (২৯ মে) ছিল তাঁর চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবস। এ উপলক্ষে স্কুলের সহকর্মীবৃন্দ ও বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এক হৃদয়গ্রাহী বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

দুপুরে বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত এ সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান শিক্ষক আসুক আহমদ এবং সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন সিনিয়র শিক্ষক বদরুল হক। অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষক রনজয় কুমার দাসকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ক্রেস্ট প্রদান করে সম্মান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশে বিদায়ী শিক্ষক রনজয় কুমার দাস নিজের শিক্ষকতা জীবনের নানা স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “এই বিদ্যালয় শুধু আমার কর্মস্থল ছিল না, এটি ছিল আমার দ্বিতীয় পরিবার। আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়গুলো কেটেছে এই স্কুলের আঙিনায়। শিক্ষার্থীদের মাঝে যে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা পেয়েছি, তা আমি কখনো ভুলতে পারবো না।” তিনি আরও বলেন, “আমি এই বিদ্যালয়ে যোগদান করেছিলাম এক তরুণ শিক্ষক হিসেবে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত স্কুলের প্রতিটি পরিবর্তনের সঙ্গে আমি জড়িত ছিলাম। অনেক সহকর্মী এসেছেন, অনেকে বিদায় নিয়েছেন, কিন্তু সহমর্মিতা আর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আমাদের পরিবারে রূপ দিয়েছিল। আজ বিদায়ের এই মুহূর্তে আমি কৃতজ্ঞতা জানাই আমার সব সহকর্মী, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের প্রতি, যাঁরা আমাকে এতদিন সাহচর্য দিয়েছেন।”

তিনি আবেগময় কণ্ঠে আরও বলেন, “আমি চেষ্টা করেছি একজন দায়িত্বশীল শিক্ষক হিসেবে আমার দায়িত্ব পালন করতে। কখনও কখনও হয়তো ভুল করেছি, কাউকে অনিচ্ছায় কষ্ট দিয়েছি—সেসবের জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষকতা শুধু পেশা নয়, এটি একটি মহান ব্রত। এই ব্রতের প্রতি আমি সৎ থাকার চেষ্টা করেছি।”

পরিশেষে তিনি বলেন, “আজ আমি শারীরিকভাবে হয়তো বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু আমার হৃদয়ের প্রতিটি কোণেই থাকবে এই স্কুল, এই ছাত্ররা, এই সহকর্মীরা। আমি সবসময় এই বিদ্যালয়ের কল্যাণ ও অগ্রগতি কামনা করি। ভবিষ্যতে যদি কখনো প্রয়োজন হয়, আমি এই পরিবারের পাশে থাকবো—এটাই আমার অঙ্গীকার।”

আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বড়লেখা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও অত্র বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী শিক্ষক আব্দুর রব। তিনি রনজয় স্যারের শিক্ষা ও মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “তিনি শুধু একজন শিক্ষকই নন, ছিলেন একজন আদর্শ মানুষ, তিনি শিক্ষা দিয়েছেন নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্ববোধের।”

দক্ষিণভাগ এন. সি. এম. উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসুক আহমদ বলেন, “রনজয় কুমার দাস ছিলেন একজন অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের পাঠদানে তাঁর আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি ছিল না। তিনি ছিলেন দক্ষ, অভিজ্ঞ ও আদর্শ শিক্ষকের প্রকৃত প্রতিচ্ছবি। একজন শিক্ষকের যে গুণাবলি থাকা প্রয়োজন, তাঁর মাঝে তা পূর্ণরূপে বিদ্যমান ছিল।

আমি নিজে স্যারের ছাত্র হতে পেরে নিজেকে সত্যিই সৌভাগ্যবান মনে করি। তাঁর অবসরের মধ্য দিয়ে শুধু একজন আদর্শ শিক্ষককেই হারালাম না, বরং একজন শ্রদ্ধেয় অভিভাবকের অভাবও গভীরভাবে অনুভব করছি। স্যারের অবসরোত্তর জীবন যেন হয় শান্তিপূর্ণ, সুন্দর ও সুস্থতায় ভরপুর এই কামনা করি।”

এছাড়াও আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সিনিয়র শিক্ষক লুৎফুর রহমান, সুভ্রকান্তি সেন, সাইফুল ইসলাম, বেলাল আহমদ, মতিউর রহমান, অভিভাবক প্রতিনিধি আবুল হাসান তাপাদার প্রমুখ। বক্তারা রনজয় কুমার দাসের দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রশংসা করে তাঁর অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

বিদায়ের মুহূর্তে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চোখে জল ঝরেছিল। বিদ্যালয় পরিবার তাঁদের প্রিয় শিক্ষককে ভবিষ্যতেও পরামর্শদাতা ও অভিভাবকতুল্য পথপ্রদর্শক হিসেবে কাছে পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে।

ষাটমা কন্ঠ/রুমেল

নিউজটি শেয়ার করুন

৩৮ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি

বড়লেখায় শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা: কাঁদলেন ও কাঁদালেন

আপডেট সময় : ০৫:৪৯:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দক্ষিণভাগ এনসিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রনজয় কুমার দাস ৩৮ বছরের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন। বৃহস্পতিবার (২৯ মে) ছিল তাঁর চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবস। এ উপলক্ষে স্কুলের সহকর্মীবৃন্দ ও বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এক হৃদয়গ্রাহী বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

দুপুরে বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত এ সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান শিক্ষক আসুক আহমদ এবং সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন সিনিয়র শিক্ষক বদরুল হক। অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষক রনজয় কুমার দাসকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ক্রেস্ট প্রদান করে সম্মান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশে বিদায়ী শিক্ষক রনজয় কুমার দাস নিজের শিক্ষকতা জীবনের নানা স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “এই বিদ্যালয় শুধু আমার কর্মস্থল ছিল না, এটি ছিল আমার দ্বিতীয় পরিবার। আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়গুলো কেটেছে এই স্কুলের আঙিনায়। শিক্ষার্থীদের মাঝে যে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা পেয়েছি, তা আমি কখনো ভুলতে পারবো না।” তিনি আরও বলেন, “আমি এই বিদ্যালয়ে যোগদান করেছিলাম এক তরুণ শিক্ষক হিসেবে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত স্কুলের প্রতিটি পরিবর্তনের সঙ্গে আমি জড়িত ছিলাম। অনেক সহকর্মী এসেছেন, অনেকে বিদায় নিয়েছেন, কিন্তু সহমর্মিতা আর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আমাদের পরিবারে রূপ দিয়েছিল। আজ বিদায়ের এই মুহূর্তে আমি কৃতজ্ঞতা জানাই আমার সব সহকর্মী, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের প্রতি, যাঁরা আমাকে এতদিন সাহচর্য দিয়েছেন।”

তিনি আবেগময় কণ্ঠে আরও বলেন, “আমি চেষ্টা করেছি একজন দায়িত্বশীল শিক্ষক হিসেবে আমার দায়িত্ব পালন করতে। কখনও কখনও হয়তো ভুল করেছি, কাউকে অনিচ্ছায় কষ্ট দিয়েছি—সেসবের জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষকতা শুধু পেশা নয়, এটি একটি মহান ব্রত। এই ব্রতের প্রতি আমি সৎ থাকার চেষ্টা করেছি।”

পরিশেষে তিনি বলেন, “আজ আমি শারীরিকভাবে হয়তো বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু আমার হৃদয়ের প্রতিটি কোণেই থাকবে এই স্কুল, এই ছাত্ররা, এই সহকর্মীরা। আমি সবসময় এই বিদ্যালয়ের কল্যাণ ও অগ্রগতি কামনা করি। ভবিষ্যতে যদি কখনো প্রয়োজন হয়, আমি এই পরিবারের পাশে থাকবো—এটাই আমার অঙ্গীকার।”

আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বড়লেখা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও অত্র বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী শিক্ষক আব্দুর রব। তিনি রনজয় স্যারের শিক্ষা ও মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “তিনি শুধু একজন শিক্ষকই নন, ছিলেন একজন আদর্শ মানুষ, তিনি শিক্ষা দিয়েছেন নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্ববোধের।”

দক্ষিণভাগ এন. সি. এম. উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসুক আহমদ বলেন, “রনজয় কুমার দাস ছিলেন একজন অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের পাঠদানে তাঁর আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি ছিল না। তিনি ছিলেন দক্ষ, অভিজ্ঞ ও আদর্শ শিক্ষকের প্রকৃত প্রতিচ্ছবি। একজন শিক্ষকের যে গুণাবলি থাকা প্রয়োজন, তাঁর মাঝে তা পূর্ণরূপে বিদ্যমান ছিল।

আমি নিজে স্যারের ছাত্র হতে পেরে নিজেকে সত্যিই সৌভাগ্যবান মনে করি। তাঁর অবসরের মধ্য দিয়ে শুধু একজন আদর্শ শিক্ষককেই হারালাম না, বরং একজন শ্রদ্ধেয় অভিভাবকের অভাবও গভীরভাবে অনুভব করছি। স্যারের অবসরোত্তর জীবন যেন হয় শান্তিপূর্ণ, সুন্দর ও সুস্থতায় ভরপুর এই কামনা করি।”

এছাড়াও আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সিনিয়র শিক্ষক লুৎফুর রহমান, সুভ্রকান্তি সেন, সাইফুল ইসলাম, বেলাল আহমদ, মতিউর রহমান, অভিভাবক প্রতিনিধি আবুল হাসান তাপাদার প্রমুখ। বক্তারা রনজয় কুমার দাসের দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রশংসা করে তাঁর অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

বিদায়ের মুহূর্তে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চোখে জল ঝরেছিল। বিদ্যালয় পরিবার তাঁদের প্রিয় শিক্ষককে ভবিষ্যতেও পরামর্শদাতা ও অভিভাবকতুল্য পথপ্রদর্শক হিসেবে কাছে পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে।

ষাটমা কন্ঠ/রুমেল