পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়
ঈদের ছুটিতে প্রাণ ফিরেছে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে
- আপডেট সময় : ০৬:৩১:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫
- / 217
মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার প্রকৃতি কন্যা মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, চা বাগান, হাকালুকি হাওর আর হাকালুকি হাওরপারের হাল্লা পাখিবাড়ি পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের জায়গা। সারা বছরই এ উপজেলার পর্যটন স্পটগুলোতে কমবেশি পর্যটকের পা পড়ে। আর বড় কোনো উৎসবের ছুটি হলে তো কথাই নেই! এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ৯ দিনের সরকারি ছুটি মিলেছে। দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকেরা ছুটে গিয়েছেন মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, চা বাগান, হাকালুকি হাওর আর হাকালুকি হাওরপারের হাল্লা পাখিবাড়িতে। তবে এবার ঈদের উৎসবে পর্যটকের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে প্রকৃতি কন্যা মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে। ফলে মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক ও জলপ্রপাত এলাকার পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, ইজারাদারসহ সবার মুখে ফিরেছে তৃপ্তির হাসি।
সরেজমিন গতকাল বুধবার বিকেলে দেখা যায়, মৌলভীবাজার-বড়লেখা আঞ্চলিক মহাসড়কের কাঁঠালতলি বাজার থেকে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত পর্যটনকেন্দ্রের সড়কটি ভীষণ ব্যস্ত। পর্যটকরা বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, পিকআপ ভ্যান ও মোটরসাইকেলে হইহুল্লোড় করে ছুটে চলেছেন প্রকৃতি কন্যা মাধবকুণ্ডের দিকে। জলপ্রপাতের প্রবেশ ফটকের সামনের টিকিট কাউন্টারে পর্যটকের উপচেপড়া ভিড় ছিল। বিভিন্ন পণ্যের দোকান, খাবার হোটেলগুলোতেও পর্যটকের ভিড় দেখা গেছে। পায়ে হেঁটে জলপ্রপাতের দিকে এগোতেই দেখা গেল, জলপ্রপাত এলাকায় পর্যটকের উপচেপড়া ভিড়। হইহুল্লোড়ে মেতে ওঠেছেন পর্যটকেরা। কেউ কেউ জলপ্রপাতের ঝরনার পানিতে গোসল করছেন। কেউ বা ছবি তুলছেন প্রিয়জনের সাথে। জলপ্রপাতের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে কেউ কেউ সেলফি তুলছেন। স্থানীয় আলোকচিত্রীরাও পর্যটকদের ছবি তুলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল বিভাগের ঝালকাটি জেলার নলছিটি উপজেলা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে আসেন শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, এই প্রথম মাধকুণ্ডে এসেছি। এখানকার পরিবেশ খুবই সুন্দর। অন্য এলাকার চেয়ে সিলেট ও মৌলভীবাজারে অনেক সুন্দর সুন্দর পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। প্রকৃতি প্রেমি মানুষের সিলেট, মৌলভীবাজারের এসব পর্যটন স্পট ঘুরে দেখা দরকার। পাশাপাশি পর্যটন স্পটগুলোর প্রাকৃতিক দৃশ্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করলে এ খাত থেকে অনেক রাজস্ব আসবে।
মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের প্রধান ফটকের কাউন্টারে থাকা জলপ্রপাত ইজারাদার কর্তৃপক্ষের কর্মচারী সাজু আহমদ বলেন, এবার পর্যটক কিছুটা কম। ঈদের দিন ২ হাজার ৫০০ জন, পরদিন মঙ্গলবার আনুমানিক ১ হাজার ৫০০ জন আর বুধবার ২ হাজারের একটু বেশি পর্যটক হতে পারেন। তবে ছুটি আরও আছে। তাই পর্যটক সমাগম বাড়বে বলে আশা করছি।
বন বিভাগের বড়লেখা রেঞ্জের সহযোগী রেঞ্জ কর্মকর্তা রবিন্দ্র কুমার সিংহ বলেন, পর্যটকেরা নির্বিঘ্নে মাধবকুণ্ডে আনন্দ উপভোগ করছেন। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য পর্যটন পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি বন বিভাগ ও ইজারাদার পক্ষের লোকজন সার্বক্ষণিক কাজ করছে।




















