০৮:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কমলগঞ্জে সড়ক উন্নয়ন ও খাল খনন কাজের উদ্বোধন Logo সরকার কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে- নাসির উদ্দিন মিঠু এমপি Logo জুড়ীতে অবৈধভাবে মজুত করা ১৪ শ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ Logo জ্বালানি সংকটে বিয়ের অনুষ্ঠানে চমক, উপহার হিসেবে অকটেন পেলেব বর Logo বগুড়ায় তারার মেলা, কনকচাঁপা পেলেন আজীবন সম্মাননা Logo অভিজ্ঞতা ছাড়াই চাকরির সুযোগ মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে Logo রাষ্ট্রপতির উপ-প্রেস সচিব ও সহকারী প্রেস সচিব নিয়োগ Logo জাকসুকে ‘রাজনৈতিক স্বার্থে’ ব্যবহারের অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি Logo সুচিত্রা সেন: পাবনার এক সাধারণ মেয়ে থেকে মহানায়িকা হয়ে ওঠার গল্প Logo সিলেটের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মীর্জা জামাল পাশা আর নেই

আকস্মিক শিলাবৃষ্টিতে বড়লেখার বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন

ফাল্গুনের শেষে ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৭:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ মার্চ ২০২৫
  • / 182
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ফাল্গুনের শেষে হঠাৎ তীব্র বেগে শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেছে। সেইসঙ্গে বেশ কয়েক জায়গায় বজ্রপাতের ঘটনাও ঘটেছে। এতে ঘরের টিন ও ফসলি ক্ষেতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাতে কয়েক দফায় শিলাবৃষ্টিতে ক্ষেতের ফসল নিয়ে কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

আকস্মিক এ শিলাবৃষ্টিতে বড়লেখার বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকেই জানান, এত বড় শিলা পড়তে খুব কমই দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) রাত ৮টার দিকে কালবৈশাখি ঝড় ও শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টির সঙ্গে আধা ইঞ্চি ব্যাসার্ধ পরিমাণ শিলাবৃষ্টিও হয়েছে। যার স্থায়িত্ব ছিল প্রায় ৩০ মিনিট।কিছু এলাকায় ব্যাপক শিলাবৃষ্টিতে অধিক পরিবারের টিনের চালা ফুটো হয়েছে।

আকস্মিক এ শিলাবৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়েন পথচারীরা। মুহূর্তেই ফাঁকা হয়ে যায় রাস্তাঘাট। সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটতে বাধ্য হন।

উপজেলার বাসিন্দা বিলাল আহমদ বলেন,‌ “আমাদের এলাকায় প্রচুর শিলা পড়েছে। আমাদের ঘরের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে; এভাবে শিলাবৃষ্টি হলে ফসলি জমিরও ক্ষতি হবে।”

উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল আজিজ জানান, সন্ধ্যার পর থেকে বড়লেখা এলাকায় শীতল হাওয়া বইছিল। রাত ৮টার পর থেকে তীব্র গতিতে ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হয়। এ সময় শিলাবৃষ্টি হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে হাকালুকি পাড়ের কৃষক মশাহিদ আলী ও শামীম আহমদ বলেন, এবার তারা তরমুজ চাষ করেছেন। শিলাবৃষ্টি হওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় আছি। তরমুজ এখনো পরিপক্ব হয়নি। শিলাবৃষ্টি যেভাবে হয়েছে, তাতে হাওর অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।

দুলাল মিয়া বলেন, শিলাবৃষ্টিতে আমার টিনসেডের ঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এখন বাইরে পানি পড়ার আগে আমার ঘরে পানি পড়বে। শুধু আমার নয়, আমার এলাকার অনেক পরিবারের একই অবস্থা। টিনের চাল ও ফসলের মাট শিলাবৃষ্টির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

শিলাবৃষ্টির ফলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। বিশেষ করে ধান, সবজি ও অন্যান্য মৌসুমি ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বড় বড় শিলাবৃষ্টিতে অনেকের ঘরের টিন ফুটো হয়ে গেছে।

শিলাবৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ লাইনে ত্রুটি দেখা দেয়। মেরামত কাজের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে স্বাভাবিক ছিল না।

তবে রাত ৮ থেকে শুরু হওয়া এ বৃষ্টিতে জনজীবনে ফিরেছে প্রশান্তি। এই সময়ে বৃষ্টি জরুরী ছিলো বলে জানিয়েছেন বোরোচাষীরা।  এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে ছিলো।

পাথারিয়াকন্ঠ /রিপন

নিউজটি শেয়ার করুন

আকস্মিক শিলাবৃষ্টিতে বড়লেখার বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন

ফাল্গুনের শেষে ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি

আপডেট সময় : ০৭:৪৭:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ মার্চ ২০২৫

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ফাল্গুনের শেষে হঠাৎ তীব্র বেগে শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেছে। সেইসঙ্গে বেশ কয়েক জায়গায় বজ্রপাতের ঘটনাও ঘটেছে। এতে ঘরের টিন ও ফসলি ক্ষেতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাতে কয়েক দফায় শিলাবৃষ্টিতে ক্ষেতের ফসল নিয়ে কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

আকস্মিক এ শিলাবৃষ্টিতে বড়লেখার বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকেই জানান, এত বড় শিলা পড়তে খুব কমই দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) রাত ৮টার দিকে কালবৈশাখি ঝড় ও শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টির সঙ্গে আধা ইঞ্চি ব্যাসার্ধ পরিমাণ শিলাবৃষ্টিও হয়েছে। যার স্থায়িত্ব ছিল প্রায় ৩০ মিনিট।কিছু এলাকায় ব্যাপক শিলাবৃষ্টিতে অধিক পরিবারের টিনের চালা ফুটো হয়েছে।

আকস্মিক এ শিলাবৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়েন পথচারীরা। মুহূর্তেই ফাঁকা হয়ে যায় রাস্তাঘাট। সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটতে বাধ্য হন।

উপজেলার বাসিন্দা বিলাল আহমদ বলেন,‌ “আমাদের এলাকায় প্রচুর শিলা পড়েছে। আমাদের ঘরের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে; এভাবে শিলাবৃষ্টি হলে ফসলি জমিরও ক্ষতি হবে।”

উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল আজিজ জানান, সন্ধ্যার পর থেকে বড়লেখা এলাকায় শীতল হাওয়া বইছিল। রাত ৮টার পর থেকে তীব্র গতিতে ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হয়। এ সময় শিলাবৃষ্টি হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে হাকালুকি পাড়ের কৃষক মশাহিদ আলী ও শামীম আহমদ বলেন, এবার তারা তরমুজ চাষ করেছেন। শিলাবৃষ্টি হওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় আছি। তরমুজ এখনো পরিপক্ব হয়নি। শিলাবৃষ্টি যেভাবে হয়েছে, তাতে হাওর অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।

দুলাল মিয়া বলেন, শিলাবৃষ্টিতে আমার টিনসেডের ঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এখন বাইরে পানি পড়ার আগে আমার ঘরে পানি পড়বে। শুধু আমার নয়, আমার এলাকার অনেক পরিবারের একই অবস্থা। টিনের চাল ও ফসলের মাট শিলাবৃষ্টির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

শিলাবৃষ্টির ফলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। বিশেষ করে ধান, সবজি ও অন্যান্য মৌসুমি ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বড় বড় শিলাবৃষ্টিতে অনেকের ঘরের টিন ফুটো হয়ে গেছে।

শিলাবৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ লাইনে ত্রুটি দেখা দেয়। মেরামত কাজের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে স্বাভাবিক ছিল না।

তবে রাত ৮ থেকে শুরু হওয়া এ বৃষ্টিতে জনজীবনে ফিরেছে প্রশান্তি। এই সময়ে বৃষ্টি জরুরী ছিলো বলে জানিয়েছেন বোরোচাষীরা।  এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে ছিলো।

পাথারিয়াকন্ঠ /রিপন