০৭:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কুলাউড়ায় রাস্তার উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি শওকতুল ইসলাম Logo এসএসসি সমমান পরীক্ষার্থীদের নিয়ে বড়লেখায় ছাত্রশিবিরের দোয়া মাহফিল Logo বড়লেখায় ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা Logo সুর-নৃত্য-নাট্যে মণিপুরি থিয়েটারের বর্ণিল বিষু উৎসবের সমাপ্তি Logo দুর্নীতিবিরোধী বিতর্কে জুড়ীতে চ্যাম্পিয়ন মক্তদীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় Logo বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমছে, আর দেশে বাড়ছে, খুবই দুঃখজনক: জামায়াত আমির Logo জ্বালানি তেলের জন্য সড়কেই রাত কাটাতে বাধ্য হয় বাইকাররা Logo চা বাগানের ৪ হাজার ৬শ’ ৬৮ জন অসচ্ছল শ্রমিক পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ভাতা Logo কুলাউড়ায় সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গঠনের আহ্বান জানান শওকতুল ইসলাম এমপি Logo জুড়ীতে ৩৭০০ কৃষকের হাতে পৌঁছাল সার ও বীজ

হাকালুকি হাওরে কমেছে পরিযায়ী পাখি

পাথারিয়া কন্ঠ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:১৮:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৫
  • / 164
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলায় অবস্থিত এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওরে দু’দিনব্যাপী জলচর পাখিশুমারি শেষ হয়েছে। এ বছর হাওরে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা কমেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুমারিতে ৩৫ হাজার ২৬৮টি পাখি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে বলে জানান জরিপে অংশগ্রহণকারী পাখি বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিনিধি দল প্রতিবছরের মতো এবারও হাকালুকি হাওরে পরিযায়ী জলচর পাখির জরিপ করেছে। ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি দু’দিনব্যাপী চলেছে জরিপের কাজ। এ কাজে সহযোগিতা করেছে বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস ও বাংলাদেশ বন অধিদপ্তর। জরিপে অংশ নেন ওমর শাহাদাত, খালেক মিলা, সুলতান আহমেদ, সাব্বির আহাম্মেদ, উজ্জ্বল দাস, আবু মুসা রাজু, মাহফুজ হিমেল ও খোরশেদ আলম।

পাখি বিশেষজ্ঞরা জানান, এ বছর হাকালুকি হাওরের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ৪৫টি বিলে চালানো গণনায় সর্বমোট ৩৫ হাজার ২৬৮টি পাখি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পিংলা বিলে বিশ্বব্যাপী বিপন্ন বেয়ারের ভূতি হাঁস দুটি, নাগুয়া-লরিবাই বিলে বাংলাদেশের বিরল প্রজাতির বৈকাল তিলিহাঁস একটি, প্রায় সংকটাপন্ন ফুলুরি হাঁস তিনটি, মরচে রংয়া ভূতিহাঁস ১ হাজার ৫৮৮টি, উত্তুরে টিটি ৬টি, সংকটাপন্ন কালো মাথা কাস্তেচরা ৩৯৩টি এবং বিশ্বব্যাপী বিপন্ন পাতি ভূতিহাঁস ৯০৯টি উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়াও পিয়ং হাঁস ৫ হাজার ৫৫২টি, উত্তুরে ল্যাঞ্জ্যা হাঁস ৪ হাজার ২৭২টি এবং এশীয় শামুকখোল ৪ হাজার ২২৮টি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগত বছরের তুলনায় এবার পাখি সংখ্যা তুলনামূলক কম পরিলক্ষিত হয়েছে। কেননা প্রায় প্রতিটি জলাশয়ে মৎস্য আহরণ চলছে এবং কিছু কিছু জলাশয় প্রায় পানিশূন্য করে মাছ শিকার করা হচ্ছে। ব্যাপকভাবে কীটনাশকের ব্যবহারও বেড়েছে হাওর এলাকায়।

নাগুয়া বিলে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে পাখি শিকার, পিংলা বিলের পাশে বিষটোপ (কার্বোটাফ) দিয়ে পাখি শিকারের নমুনা স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে। হাতেনাতে ধরে জালও নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি পরিত্যক্ত মাছ ধরার ফাঁদ হাওরে ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান, যা পরিযায়ী পাখির জন্য হুমকি।

বার্ড ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে হাকালুকি হাওরে পাখিশুমারি হয়নি। এর আগে ২০২৩ সালের শুমারিতে হাওরে ৫২ প্রজাতির ৩৭ হাজার ৭৭৮টি, ২০২২ সালে ৫১ প্রজাতির ৩৬ হাজার ৫০১টি পাখি দেখা গিয়েছিল। এ ছাড়া ২০২০ সালে ৫৩ প্রজাতির ৪০ হাজার ১২৬টি এবং এর আগের বছর ২০১৯ সালে ৫১ প্রজাতির ৩৭ হাজার ৯৩১টি পাখির দেখা মিলেছিল।

স্থানীয় পরিবেশ কর্মীরা জানান, হাকালুকি হাওরের প্রতিবেশ প্রতিনিয়ত সংকটাপন্ন হচ্ছে। যার ফলে বর্ষার সময় দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা, শুষ্ক মৌসুমে পানিশূন্যতার প্রধান কারণ হচ্ছে দীর্ঘদিন থেকে নদীনালা ও বিল খনন না করা। পাহাড়ি পলিতে বিলগুলো ভরাট হয়ে নাব্য হারিয়েছে।

এ ছাড়া ফাঁদ পেতে শিকারিরা অতিথি পাখি শিকার চলছে বিলগুলোতে। এতে হাওরের প্রতিবেশ বিভিন্ন প্রজাতি পাখি ও হাঁসের জন্য সংকটাপন্ন হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

হাকালুকি হাওরে কমেছে পরিযায়ী পাখি

আপডেট সময় : ০৬:১৮:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৫

মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলায় অবস্থিত এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওরে দু’দিনব্যাপী জলচর পাখিশুমারি শেষ হয়েছে। এ বছর হাওরে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা কমেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুমারিতে ৩৫ হাজার ২৬৮টি পাখি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে বলে জানান জরিপে অংশগ্রহণকারী পাখি বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিনিধি দল প্রতিবছরের মতো এবারও হাকালুকি হাওরে পরিযায়ী জলচর পাখির জরিপ করেছে। ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি দু’দিনব্যাপী চলেছে জরিপের কাজ। এ কাজে সহযোগিতা করেছে বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস ও বাংলাদেশ বন অধিদপ্তর। জরিপে অংশ নেন ওমর শাহাদাত, খালেক মিলা, সুলতান আহমেদ, সাব্বির আহাম্মেদ, উজ্জ্বল দাস, আবু মুসা রাজু, মাহফুজ হিমেল ও খোরশেদ আলম।

পাখি বিশেষজ্ঞরা জানান, এ বছর হাকালুকি হাওরের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ৪৫টি বিলে চালানো গণনায় সর্বমোট ৩৫ হাজার ২৬৮টি পাখি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পিংলা বিলে বিশ্বব্যাপী বিপন্ন বেয়ারের ভূতি হাঁস দুটি, নাগুয়া-লরিবাই বিলে বাংলাদেশের বিরল প্রজাতির বৈকাল তিলিহাঁস একটি, প্রায় সংকটাপন্ন ফুলুরি হাঁস তিনটি, মরচে রংয়া ভূতিহাঁস ১ হাজার ৫৮৮টি, উত্তুরে টিটি ৬টি, সংকটাপন্ন কালো মাথা কাস্তেচরা ৩৯৩টি এবং বিশ্বব্যাপী বিপন্ন পাতি ভূতিহাঁস ৯০৯টি উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়াও পিয়ং হাঁস ৫ হাজার ৫৫২টি, উত্তুরে ল্যাঞ্জ্যা হাঁস ৪ হাজার ২৭২টি এবং এশীয় শামুকখোল ৪ হাজার ২২৮টি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগত বছরের তুলনায় এবার পাখি সংখ্যা তুলনামূলক কম পরিলক্ষিত হয়েছে। কেননা প্রায় প্রতিটি জলাশয়ে মৎস্য আহরণ চলছে এবং কিছু কিছু জলাশয় প্রায় পানিশূন্য করে মাছ শিকার করা হচ্ছে। ব্যাপকভাবে কীটনাশকের ব্যবহারও বেড়েছে হাওর এলাকায়।

নাগুয়া বিলে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে পাখি শিকার, পিংলা বিলের পাশে বিষটোপ (কার্বোটাফ) দিয়ে পাখি শিকারের নমুনা স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে। হাতেনাতে ধরে জালও নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি পরিত্যক্ত মাছ ধরার ফাঁদ হাওরে ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান, যা পরিযায়ী পাখির জন্য হুমকি।

বার্ড ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে হাকালুকি হাওরে পাখিশুমারি হয়নি। এর আগে ২০২৩ সালের শুমারিতে হাওরে ৫২ প্রজাতির ৩৭ হাজার ৭৭৮টি, ২০২২ সালে ৫১ প্রজাতির ৩৬ হাজার ৫০১টি পাখি দেখা গিয়েছিল। এ ছাড়া ২০২০ সালে ৫৩ প্রজাতির ৪০ হাজার ১২৬টি এবং এর আগের বছর ২০১৯ সালে ৫১ প্রজাতির ৩৭ হাজার ৯৩১টি পাখির দেখা মিলেছিল।

স্থানীয় পরিবেশ কর্মীরা জানান, হাকালুকি হাওরের প্রতিবেশ প্রতিনিয়ত সংকটাপন্ন হচ্ছে। যার ফলে বর্ষার সময় দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা, শুষ্ক মৌসুমে পানিশূন্যতার প্রধান কারণ হচ্ছে দীর্ঘদিন থেকে নদীনালা ও বিল খনন না করা। পাহাড়ি পলিতে বিলগুলো ভরাট হয়ে নাব্য হারিয়েছে।

এ ছাড়া ফাঁদ পেতে শিকারিরা অতিথি পাখি শিকার চলছে বিলগুলোতে। এতে হাওরের প্রতিবেশ বিভিন্ন প্রজাতি পাখি ও হাঁসের জন্য সংকটাপন্ন হয়েছে।